গৃহবধূকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, সন্তান নিয়ে পালিয়েছে স্বামী!

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর ৯ বছরের শিশু সন্তানসহ পালিয়ে গেছে স্বামী। নিহত গৃহবধূ কাশিপুর হাজীবাড়ী স্কুল রোড সংলগ্ন মৃত আব্দুল আজিজের মেয়ে।

রবিবার (২০ নভেম্বর) সকালে ফতুল্লা থানার কাশিপুর হাজিপাড়াস্থ স্কুল গলির নিজ বাড়ি থেকে নিহতের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, রাতের কোনো একসময় দ্বিতীয় স্বামী মোক্তার হোসেন বাসায় প্রবেশ করে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে লাশ ফেলে পালিয়ে যায়।

নিহতের ভাই সুমন মিয়া জানায়, বনিবনা না হওয়ায় ২০ বছর পূর্বে প্রথম স্বামীর সাথে তার বোনের ডিভোর্স হয়। ১৫ বছর পূর্বে তার বোন মোক্তার হোসেনকে বিয়ে করে। মোক্তার হোসেন প্রাইভেটকার চালক ছিলেন। তার বোনের পূর্বের সংসারে সাদিয়া (২০) নামে এক মেয়ে আছে। তার বিয়েও হয়েছে। আর বর্তমান সংসারে মাশরুল (৯) নামক একটি শিশু সন্তান রয়েছে। দ্বিতীয় বিয়ের পর থেকে তার বোন তাদের সাথে একই বাড়িতে বসবাস করত। বেশ কয়েক মাস যাবৎ বনিবনা হচ্ছিল না বর্তমান স্বামী মোক্তার হোসেনের সাথে। ফলে গত দুই মাস পূর্বে মোক্তার হোসেন ৯ বছর বয়সী মাশরুলকে নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে একই এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করতে শুরু করে। দেড় মাস পূর্বে রাস্তায় একা পেয়ে তার বোনের গালে ছুরি দিয়ে আঘাত করে স্বামী মোক্তার হোসেন। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হয়েছিল।

এ নিয়ে তার বড় ভাই মোক্তারকে চড়-থাপ্পড় মেরেছিল। শনিবার (১৯ নভেম্বর) রাতে তার বোন রাতের খাবার খেয়ে নিজ ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়ে। সকাল ৮টার দিকে তার মা ডাকতে গেলে নিহতের রক্তাক্ত দেহ ঘরে পরে থাকতে দেখে চিৎকার করলে তারা সেখানে যায়। সেখান থেকে তারা তার বোনজামাইয়ের ভাড়া বাসায় গিয়ে দেখতে পায় তার বোনজামাই ভাগিনা মাশরুমকে নিয়ে ওই বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছে। তার ধারণা, রাতের কোনো একসময় বাইরে থেকে ঘরের দরজা খুলে তার বোনজামাইসহ একাধিক খুনি ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে তার বোনকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে লাশ ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

ঘটনাস্থলে যাওয়া ফতুল্লা মডেল থানার এসআই আবু হানিফ জানায়, সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের লাশ তার পরিবারের সদস্যদের নিকট বুঝিয়ে দেওয়া হয়। নিহতের মাথার পেছনে ও মুখমণ্ডলে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ধারষণা করা হচ্ছে, তাকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী পলাতক রয়েছে বলে তিনি জানান।