বিয়েতে রাজি না হওয়ায় প্রেমিকাকে শ্বাসরোধে হত্যা

একই গার্মেন্টসে চাকরি করতেন মো. নিজাম উদ্দিন (৩০) ও ভুক্তভোগী কমলা খাতুন (২৬)। সে সুবাধে চার মাসের পরিচয়ে নিজামের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে ভুক্তভোগীর। নিজাম বিবাহিত ও দুই সন্তানের জনক হওয়া সত্ত্বেও কমলাকে বিয়ে জন্য চাপ দেয়। এতে কমলা রাজি না হওয়ায় নিজামের মনে ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হতে থাকে। 

হত্যার পূর্ব পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কমলাকে তার গ্রামের বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার জন্য কৌশলে রাজি করায় নিজাম। ঘটনার দিন সকালে নিজাম গার্মেন্টসে কাজ করে বাসায় ফিরে আসে। বাসা থেকে বের হওয়ার সময় বাজারের ব্যাগে কাপড় দিয়ে মোড়ানো ধারালো দা সঙ্গে নেয়। পথিমধ্যে ভুক্তভোগীকে রাস্তা থেকে তুলে ঢাকা থেকে দুর্গাপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। নেত্রকোনার পূর্বধলার তালতলা এলাকায় রাস্তার পাশে পৌঁছালে কৌশলে ভুক্তভোগীকে গাড়ি থেকে নামতে বলে। ভুক্তভোগী নামতে অপারগতা প্রকাশ করলে ধাক্কা দিয়ে গাড়ি থেকে নামায়। তখন ভুক্তভোগী ভয়ে চিৎকার করতে চাইলে নিজাম গলাচেপে ধরলে ভুক্তভোগী মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। মৃত্যু নিশ্চিত করতে নিজাম সঙ্গে থাকা দা দিয়ে ভুক্তভোগীর পেটে গুরুতর জখম করে পেট থেকে ভুড়ি করে ফেলে।

সোমাবার (২১ নভেম্বর) দুপুরে নেত্রকোনা জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এমন ঘটনার বর্ণনা দেন র‌্যাব-১৪ এর অধিনায়ক ডিআইজি মহিবুল ইসলাম।

তিনি জানান, পূর্বধলার থানার ক্লু-লেস ও চাঞ্চল্যকর অজ্ঞাতনামা নারীর মৃতদেহ উদ্ধারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন ও মূল হোতাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে র‌্যাব।

তিনি আরও জানান. মো. নিজাম নেত্রকোনা পূর্বধলার আগিয়া গ্রামের মো. চাঁন মিয়ার ছেলে। আর ভুক্তভোগী কমলার খাতুন একই জেলার দুর্গাপুরের রাত্রা কাকৈরগড়া গ্রামের মাতাব উদ্দিনের মেয়ে।

চলতি মাসের ১৯ তারিখ পূর্বধলার খলিশাউড়া ইউনিয়নের বালুচড়া বাজারের তালতলা মোড় এলাকা রাস্তার পাশে কলা গাছের নিচে থেকে অজ্ঞাতনামা হিসেবে কমলার মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ময়নতদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়।