বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৫৮তম জন্মদিন উপলক্ষে উত্তরবঙ্গ ও বাংলাদেশ ছাত্র ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনাসভায় মির্জা ফখরুল বলেন, 'লড়াই শুরু হয়ে গেছে, মানুষ রাজপথে নেমে পড়েছে। এখন আমাদের আরো শক্তি সঞ্চয় করে নয়ন, শাওন, রহিম, আলিমের রক্তের ঋণ পরিশোধ করার জন্য তৈরি হতে হবে। মানুষ কিন্তু পিছিয়ে নেই। প্রত্যেকটি সমাবেশে এই বৃদ্ধ বয়সে যা দেখলাম তা আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। আরেকটি মুক্তিযুদ্ধ করতে হবে, সেই মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়েই অবৈধ সরকারকে পরাজিত করতে হবে।'
আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, 'এরা আজকে গোটা বাংলাদেশের রাজনীতি, অর্থনীতি ধ্বংস করে ফেলেছে। যদি একটা জাতিকে ধ্বংস করতে হয় তার রাজনৈতিক কাঠামোকে ধ্বংস করো, তার অর্থনৈতিক কাঠামোকে ধ্বংস করতে হয় আজকে তারা সেটাই করেছে। আওয়ামী লীগ বালখিল্য আচরণ করে তাই কেউ তাদের বিশ্বাস করে না। এরা মানুষকে মানুষ মনে করে না, এরা মনে করে বোঝা। দেশটাকে এরা পৈতৃক সম্পত্তি মনে করে। যেভাবে পারবে সেভাবে লুট করবে কেউ কিছু বলতে পারবে না। চুরি করবে কেউ কিছু বলতে পারবে না। মানুষকে খুন করবে কেউ কিছু বলতে পারবে না।'
ডলার সঙ্কটের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, 'গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে ব্যাংকে গেলে এখন আর এলসি খোলা যায় না। কারণ তাদের ডলার নেই ডলার দিতে পারছে না। রিজার্ভের টাকাতো লোপাট করেই ফেলেছে এবং এত বেশি লোপাট করে ফেলেছে নিজেরাই বলছে রিজার্ভ তো আমরা চিবিয়ে খাইনি। রিজার্ভ তো আপনারা চিবিয়ে খাননি; গিলে ফেলেছেন, পাচার করে দিয়েছেন।'
বিএনপির এই নেতা বলেন, 'দেশের সমস্ত সম্পদ লুট করছ, ১০ বছরে ৮৬ লাখ কোটি টাকা পাচার করেছ। গত এক বছরেই ৭৮ হাজার কোটি টাকা পাচার করেছ। যে দেশের অর্থনীতিতে সরকারের লোকেরা পুরো সম্পদ লুট করে পাচার করে নিয়ে যায় সেই দেশের অর্থনীতি কেমন থাকতে পারে?'
বিচারকদের উদ্দেশ করে সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'দলের যেসব জ্যেষ্ঠ নেতাদের মামলা খালাস হয়ে গেছে তাদের বিরুদ্ধে আবার নতুন করে মামলা দেওয়া শুরু হয়েছে। বিচার বিভাগের প্রতি সম্মান রেখে বলতে চাই দয়া করে ন্যায় বিচার করুন। কারণ এ দেশে বহু প্রমাণ রয়েছে। বিচারপতি তোমার বিচার করবে যারা আজ জেগেছে সেই জনতা। সুতরাং পার পাবেন না।'
সংগঠনের উপদেষ্টা ও বিএনপির সহ প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য কাদের গনি চৌধুরী, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, সাবেক দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী প্রমুখ।