ফেভারিট ডেনমার্ক আন্ডারডগ তিউনিসিয়া

ডি গ্রুপের প্রথম ম্যাচে আজ অসম লড়াই। হ্যাঁ, খেলায় নিজের দিনে হার-জিত যেকোনো দিকে গড়াতে পারে। তবে ম্যাচের আগে পারা না পারার হিসাব তো করাই যায়। সেদিক থেকে আজ এডুকেশন সিটি স্টেডিয়ামে ডেনমার্কের সামনে আফ্রিকান তিউনিসিয়ার জোর অনেক কমই বলতে হয়। ডেনিসরা বরাবরই ইউরোপিয়ান দ্বিতীয় শক্তির দল। তবে গত ইউরো থেকে যেন নতুন উদ্যমে জেগে উঠে তারাও জায়ান্টদের কাতারে জায়গা করে নিয়েছে। দলটিতে একঝাঁক তারকার উপস্থিতি নেই সত্যি, তবে দলগত শক্তিতে কমতি নেই কোনো। আর সেই ধারায় বিশ্বকাপ বাছাইয়ে কোনো ম্যাচ না জিতে কাতারে আসা ডেনিসদের আজ ফেভারিট ধরতেই হয়। মালির বিপক্ষে আফ্রিকান বাছাইয়ের শেষ ধাপে দুই লেগের লড়াইয়ে কোনোমতে ১ গোলের অ্যাগ্রিগেটে জেতা তিউনিসরা অপেক্ষায় থাকবে একটি অঘটনের। 

বলা হচ্ছে এই ম্যাচের কথা। অথচ ডেনিস কোচ কাসপার হুলমান্দ হুঙ্কার ছাড়লেন বিশ্বকাপ জেতার। কাল ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে এই কোচের উক্তি আলোচনা ছড়াল বেশ। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার বাইরে এই আসরে স্পষ্ট ফেভারিটের নাম নেই। অনেকটা উন্মুক্ত বিশ্বকাপে তাই হাত ছোঁয়াতে চায় ডেনমার্ক। হুলমান্দ জানান, ‘আমাদের স্বপ্ন কোনো কিছু জেতা। তাই আপনি যখন এমন বিশ্বকাপের মতো কোনো টুর্নামেন্টে যাবেন তখন আমি বলব আমার এই গ্রুপ ফুটবলারদের কিছু জেতার সামর্থ্য আছে। সেই ‘কিছু’ মানে কিন্তু সব কিছুই।’

গত ইউরোয় সেমিফাইনাল খেলে ডেনমার্কের বিশ্বাস বড় হয়েছে। এতটাই যে বাছাইপর্বের ১০ ম্যাচের ৯ ম্যাচ জিতেছে তারা। এই সময়ে বিপক্ষের জালে ৩০ গোল দিলেও নিজেরা হজম করেছে মাত্র ৩ গোল। আর শেষ ৮ ম্যাচে কোনো গোল খায়নি ডেনমার্ক। এই সাফল্য বিশ্বকাপে ডেনিসদের আরও উচ্ছ্বাস দিচ্ছে। সঙ্গে ইউরোর পর এই প্রথম বড় কোনো আসরে ফিরে আসা ক্রিশ্চিয়ান এরিকসেন দলের শক্তি বাড়াচ্ছেন। গত ইউরোতে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে হাসপাতালে ছিলেন এরিকসেন। এই বিশ্বকাপে পুরো ফিট হয়ে উঠেছেন। সব মিলিয়ে হুলমান্দের শিরোপা জয়ের স্বপ্নটা তাই বড় হয়েছে একটু বেশিই।

বড় স্বপ্ন সত্যি করতে গ্রুপসেরা হতে হবে ডেনমার্ককে। এই পথে বড় বাধা ফ্রান্স। তবে বর্তমান বিশ্বজয়ীদের হারানোর নিকটঅতীত আছে ডেনিসদের। নেশন্স লিগের লড়াইয়ে বিশ্বকাপে গ্রুপসঙ্গী ফ্রান্সকে মুখোমুখি দেখায় দুবারই হারিয়েছে তারা। তাই আরও আত্মবিশ্বাসী হুলমান্দ বলেন, ‘আমরা ফেভারিট কিনা যদি জিজ্ঞাস করেন সবাই বলত না। আমিও তাই বলব। কিন্তু আমরা যেকোনো দিন যেকোনো দলকে হারিয়ে দিতে পারি। আমাদের আত্মবিশ্বাসটাই এমন। আমাদের দলটা সব কিছু জিততে প্রস্তুত। আর আপনি যদি বড় কিছু জিততে চান তাহলে এই নিশ্চয়তা থাকতেই হবে।’

ডেনমার্কের সঙ্গে তিউনিসিয়ার পূর্ব লড়াই মাত্র একবার। তাও ২০ বছর আগে। ২০০২ সালের প্রীতি ম্যাচে ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল ডেনমার্ক। ওই জয়ের রেশ ডেনিসদের যেমন নেই তেমনি হারের হতাশাও নেই তিউনিসিয়ার। লম্বা বিরতি পর নতুন দেখায় ম্যাচটি হবে নতুনের মতোই। তাতে তিউনিসিয়ার স্বপ্ন খুব একটা নেই। এক যদি না তারা অঘটন ঘটাতে পারে। সেই সম্ভাবনাটাও কম তিউনিসদের। আফ্রিকান বাছাইপর্বের শেষ রাউন্ডে মালির বিপক্ষে জিততে বেগ পেতে হয় দলটির। দুই লেগ মিলিয়ে ১-০ অ্যাগ্রিগেটে জিতলেও সেই গোলটি ছিল আত্মঘাতী। প্রথম লেগে মালির মুসা সিসোকো ভুল না করলে তিউনিসিয়া এই বিশ্বকাপের টিকিটও পেত না।

তবে তিউনিসিয়ার হারানোর কিছু নেই। বরং না হারার চাপে থাকবে ডেনমার্কই। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে অঘটন উপহার দিতে চাইবে। হুলমান্দরা বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখলে এই অঘটন এড়াতে হবে।