ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার সোনারামপুর ইউনিয়নে কুমিল্লায় গণ-সমাবেশের প্রচারণায় লিফলেট বিতরণের সময় পুলিশের গুলিতে আহত ছাত্রদল নেতা রফিকুল ইসলাম ওরফে নয়ন মিয়া চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ঘটনায় দায়ী পুলিশ অফিসার ও সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে বিএনপি।
একইসঙ্গে আবার নতুন করে মিথ্যা গায়েবি মামলা দায়ের অবিলম্বে বন্ধ করে ইতিপূর্বে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের করার দাবি জানিয়েছেন দলটি।
গত সোমবার রাতে অনুষ্ঠিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক ভার্চুয়াল সভার সিদ্ধান্ত জানাতে বৃহস্পতিবার (২৪ নভেম্বর) বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘ক্ষমতাসীন অবৈধ সরকার বেআইনিভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য জনগণের ন্যায়সঙ্গত গণ-আন্দোলনকে নস্যাৎ করার লক্ষে হত্যাকাণ্ডে মেতে উঠেছে। ইতিপূর্বে ভোলায় দুই জন, নারায়ণগঞ্জে ১ জন, মুন্সিগঞ্জে ১ জন, যশোরে ১ জন এবং নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ১ জন ও সিলেটে ১ জন আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত হয়েছে। এতে প্রতীয়মান অবৈধ সরকার তাদের কর্তৃত্ববাদী, ফ্যসীবাদী এক নায়কতান্ত্রিক সরকারকে টিকিয়ে রাখাতে হত্যা, মিথ্যা মামলা ও গ্রেপ্তার করে সর্বগ্রাসী ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করছে।
আরও বলা হয়, জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ, বিরোধী নেতা-কর্মীদের হত্যার প্রতিবাদে এবং দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ প্রায় ৩৫ লাখ নেতা-কর্মীদের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে বিভাগীয় গণ-সমাবেশ চলছে। এসব সমাবেশ নস্যাৎ করার হীন চক্রান্তে অবৈধ সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিশেষ করে পুলিশকে বেআইনিভাবে ব্যবহার করছে। একই সঙ্গে পুনরায় গায়েবি মিথ্যা মামলা দিয়ে হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে হয়রানি করছে।
গত ২১ নভেম্বর রাতে অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সভায় উপস্থিত ছিলেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও বেগম সেলিমা রহমান।
সভায় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের নির্যাতনে শহীদ ছাত্রদল নেতা অনিক, ছাত্রদল নেতা নয়ন মিয়ার পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এছাড়া অবিলম্বে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির ঘোষণা বাতিল করার দাবি জানানো হয় সভায়।