ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) ৫ম জাতীয় সম্মেলন আজ শুক্রবার। দুপুর আড়াইটায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। পরে বিকেল সাড়ে ৫টায় কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনে দেশের প্রায় ৩০ হাজার চিকিৎসক ও চিকিৎসার সঙ্গে সম্পর্কিত পেশাজীবীরা অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
সম্মেলনকে ঘিরে স্বাচিপের নতুন নেতৃত্ব নিয়ে শেষ দিন পর্যন্ত মুখর ছিল আওয়ামী লীগ সমর্থিত চিকিৎসক অঙ্গন। সংগঠনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, স্বাচিপের নেতৃত্ব নির্বাচনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সাংগঠনিক নেত্রী শেখ হাসিনার ওপর। কিন্তু কারা আসছেন নেতৃত্বে এ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। বিশেষ করে কে হচ্ছেন সভাপতি ও মহাসচিব এ নিয়ে এতদিন নানা জনের নাম শোনা গেছে। তবে একেবারে শেষ মুহূর্তে এসে এই দুই পদে দুই-তিন জনের নাম বেশি শোনা যাচ্ছে।
স্বাচিপ নেতারা দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, নেতৃত্ব নির্বাচন প্রশ্নে স্বাচিপের চিকিৎসকরা এখন দুই অংশে বিভক্ত হয়েছেন। এক অংশ চাইছেন, বর্তমান সভাপতি ও মহাসচিবকে ঠিক রেখে নেতৃত্ব আসুক। কিন্তু অপর অংশ চাইছেন, অপেক্ষাকৃত তরুণদের নেতৃত্ব আসুক। তবে দুই পক্ষই নেতৃত্ব নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর তাদের শেষ আস্থা রাখছেন। অন্যদিকে, সভাপতি ও মহাসচিব পদে এমন কয়েকজনের নাম আলোচনায় এসেছে, যারা চিকিৎসক অঙ্গন ও পেশাজীবী রাজনীতিতে প্রভাবশালী। ফলে স্বাচিপের এবারের নেতৃত্বে পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী।
তারা আরও জানান, সম্মেলন শেষে আজ সন্ধ্যায় কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে। তবে পুরো কমিটির ঘোষণা দেওয়া হবে কি না, সেটা নির্ভর করবে সাংগঠনিক নেত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কী নির্দেশনা দেন তার ওপর।
সম্মেলনের সর্বশেষ প্রস্তুতির তথ্য জানিয়ে স্বাচিপ সভাপতি অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সলান গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে দেশ রূপান্তরকে বলেন, হাজার হাজার চিকিৎসক আসছেন। চিকিৎসকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। নেতৃত্ব নির্বাচনে আমাদের সাংগঠনিক নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ওপর গতবারও দায়িত্ব অর্পণ করেছিলাম। এবারের সম্মেলনেও আমি মনে করছি, কাউন্সিলররা জননেত্রী শেখ হাসিনার ওপর আস্থা রেখে তার ওপর নেতৃত্ব নির্বাচনের দায়িত্ব অর্পণ করবেন। আমি মনে করি, তুলনামূলকভাবে নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা হবে স্বাচিপের, সেই নেতৃত্বের মাধ্যমে স্বাচিপ দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাবে।
সম্মেলনের ব্যাপারে স্বাচিপের যুগ্ম মহাসচিব-১ অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, সম্মেলনের প্রস্তুতি শেষ। আমরা আশা করছি ২০-৩০ হাজার চিকিৎসক সম্মেলনে অংশ নেবেন। সম্মেলনে চিকিৎসকদের বাইরেও চিকিৎসা পেশার সঙ্গে জড়িত ফার্মাসিস্ট, টেকনোলজিস্ট তারাও অংশ নেবেন। তাদের জন্য আলাদা কার্ড করা হয়েছে।
সভাপতি পদে যাদের নাম আলোচনায় : এতদিন নানাজনের নাম শোনা গেলেও একেবারে শেষ মুহূর্তে এসে হাতেগোনা কিছু প্রবীণ চিকিৎসকের নাম স্বাচিপ সভাপতি হিসেবে শোনা যাচ্ছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) দুই সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান ও অধ্যাপক ডা. কনককান্তি বড়ুয়া, স্বাচিপের বর্তমান সভাপতি অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সলান ও মহাসচিব অধ্যাপক ডা. আব্দুল আজিজ, বিএসএমএমইউয়ের নিউরো মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. আবু নাসের রিজভী ও ডা. জামাল উদ্দিন চৌধুরী।
স্বাচিপের কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে সভাপতি হিসেবে অন্তত তিনজনের নাম বেশি শোনা গেছে। তারা হলেন অধ্যাপক ডা. কনককান্তি বড়ুয়া, অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সলান ও অধ্যাপক ডা. আবু নাসের রিজভী। স্বাচিপ নেতারা বলেছেন, সাধারণত একজন অধ্যাপক ও প্রবীণ চিকিৎসককে সভাপতি করা হয়ে থাকে। তবে এবার সভাপতি প্রার্থীদের মধ্যে অনেকে সংসদ সদস্য প্রার্থী হতে ইচ্ছুক এবং তাদের কেউ কেউ মনোনয়ন পেতেও পারেন। সেক্ষেত্রে স্বাচিপের নেতৃত্বে তারা বাদ পড়তে পারেন।
অবশ্য স্বাচিপ নেতারা এমনও বলেছেন, সামনের বছর জাতীয় সংসদ নির্বাচন। বিরোধী দল এ সময়ে ব্যাপক আন্দোলন-সংগ্রাম করবে। সেক্ষেত্রে স্বাচিপকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় থাকবে হবে। এ পরিস্থিতি বিবেচনায় যারা পরীক্ষিত ও সাহসী নেতা তাদের দিয়েই কমিটি গঠিত হতে পারে। সেক্ষেত্রে বর্তমান সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সলান ও মহাসচিব এম এ আজিজকেই বহাল রাখা হতে পারে। এর বাইরে অধ্যাপক ডা. কনককান্তি বড়ুয়াকে সভাপতি ও এম এ আজিজকে মহাসচিব করে নতুন কমিটি ঘোষণা হতে পারে।
মহাসচিবে তরুণ নেতৃত্বের সম্ভাবনা : স্বাচিপ নেতারা বলেছেন, সামনে জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এবার তুলনামূলক তরুণ ও রাজনীতিতে সক্রিয় এমন একজন স্বাচিপ মহাসচিব হতে পারেন। কারণ নির্বাচনী রাজনীতি ও প্রচারণায় আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই রাজপথে নেমে পড়েছেন। তাতে বোঝা যাচ্ছে সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতৃত্বে যারা দুর্দিনের পরীক্ষিত নেতা ও নেতৃত্বে সক্ষম ও সাহসী এমন কেউ নেতৃত্বে আসবেন।
এই পদের প্রার্থীদের মধ্যে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে, তারা হলেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক পরিচালক ও স্বাচিপের যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া, ডা. তারেক মেহেদী পারভেজ, স্বাচিপের বর্তমান কোষাধ্যক্ষ ও স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবু ইউসুফ ফকির, স্বাচিপের যুগ্ম মহাসচিব ও জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. জুলফিকার আলী লেলিন ও একই হাসপাতালের ডা. কামরুল হাসান মিলন, স্বাচিপের কেন্দ্রীয় নেতা ও বিএসএমএমইউয়ের নিউরো সার্জারি বিভাগের ডিন ও নিউরো সার্জন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ হোসেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রেডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. শাহরিয়ার নবী শাকিল ও অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী ডা. আবুল হাসনাৎ মিল্টন। তবে তাদের মধ্যে শেষ মুহূর্তে এসে ডা. জুলফিকার আলী লেলিন ও অধ্যাপক ডা. আবু ইউসুফ ফকিরের নাম কিছুটা বেশি শোনা যাচ্ছে।