রাজধানীর হাজারীবাগে হাসিবুর রহমান ওরফে ‘হাসু বাহিনীর’ হাত থেকে রক্ষা পেতে হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এক ব্যক্তি। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ওই এলাকার বাসিন্দা নাসিম রহমান এ দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমি একজন ব্যবসায়ী। হাজারীবাগ বাড়েইখালীর জমি আমি এবং আমার দুই ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবুর রহমান রতন ও সেলিম খরিদ ও পৈতৃকসূত্রে মালিক। ওই জমিতে গরুর খামার, নার্সারি, গোডাউন আছে এবং কিছু ভাড়াটিয়া বসবাস করে। দীর্ঘদিন ধরে হাবিবুর রহমান ওরফে হাসু বিভিন্নভাবে আমার কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছে। এ ছাড়া ওই জমিতে ব্যবসা ও বসবাস করলে হাসুকে নিয়মিত চাঁদা দিতে হবে বলে হুমকি দিয়ে আসছে। গত ১৬ নভেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে হাসু তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে আমার বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে মেইন গেইটে তালা লাগিয়ে দেয়। আমি খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে গেইটের তালা ভেঙে ভাড়াটিয়াদের উদ্ধার করি’।
তার আরো অভিযোগ, ‘পরদিন ১৭ নভেম্বর সকাল ১১টার দিকে আমি ও আমার ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবুর রহমান, সেলিম রহমান (জার্মান প্রবাসী, জার্মান সিটির কাউন্সিলর), আমার ম্যানেজার ইউনুসসহ ভাড়াটিয়াদের খোঁজ-খবর নিতে বাড়ি যাই, ভাড়াটিয়াদের ভয় না পাওয়ার জন্য আশ্বস্ত করি। ফেরার পথে হাজারীবাগ থানাধীন রায়ের বাজারের মেরিস্টোপ ক্লিনিকের সামনে পৌঁছামাত্র হাসুর নেতৃত্বে অজ্ঞাতনামা ২০/২৫ জন আমাদের পথরোধ করে পিস্তল ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে আকস্মিক হামলা করে। নবারুন আমার ছোট ভাই সেলিমকে জড়িয়ে ধরে রাখে এবং আরিফ আমার ভাই সেলিমকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো চাপাতি দিয়ে মাথায় সজোরে কোপ দেয়। এতে আমার ভাই রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে যায়। পারভেজ নামের আরেক সন্ত্রাসী ম্যানেজার ইউনুসকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে ধারলো ছুরি দিয়া তাহার গলায় আঘাত করে। কিন্তু লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে তাার বাম গালে লাগে। এতে সেও মারাত্মভাবে জখম হয়। এ ছাড়া আমার মাথায় পিস্তল ধরে, একপর্যায়ে বাট দিয়ে আমার মাথা ও কাপালের দুই পাশে আঘাত করে। সাগর ও লোকমান আমার বড় ভাই মাহবুবুর রহমান রতনকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে এবং তাহার চোখে-মুখে কিল-ঘুষি মারে। এতে আমার ভাই চোখ, মুখসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় জখমপ্রাপ্ত হয়। সন্ত্রাসীরা আমার কাছে থাকা লাইসেন্সকৃত একটি শর্টগান ও আমার ভাই সেলিম রহমান এর একটি ২২ বোর রাইফেল এর ৮০ (আশি) রাউন্ড গুলি অস্ত্রের লাইসেন্সটি ধস্তাধস্তি করে নিয়ে যায়’। তিনি আরো বলেন, ‘আমার ছোট ভাই সেলিমের কাছে থাকা দেশি-বিদেশি ক্রেডিট কার্ড, মূল্যমান কাগজপত্রসহ নগদ ৬০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। আমরা চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন আসলে আমাদের ভয়ভীতি ও হুমদি প্রদান করে সন্ত্রাসীরা চলে যায়। আশপাশের লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় আমাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নিয়ে যায়। ডাক্তার আমার ভাই সেলিমের মাথায় ১৯টি সেলাই দেয় এবং ম্যানেজার ইউনুনের মুখে পাঁচটি সেলাই দেয়। আমিসহ আমার ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবুর রহমান রতন প্রাথমিক চিকিৎসা নিই। আমার ভাই সেলিম গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভর্তি আছে’।
তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় আমি থানায় মামলা দায়ের করি। মামলায় হাসু, আরিফ, নবারুন, পারভেজ, সাগর, লোকমান, সাকিব, রাসেল, মোকাচ্ছেল, রাকিব, নাদিম রাজু এবং দুলালসহ অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করি। এর মধ্যে পারভেজ গ্রেপ্তার হয়। বাকিরা এখনো গ্রেপ্তার হয়নি’।
তিনি বলেন, আসামিরা বিভিন্নভাবে আমাদের মামলা তুলে নেয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছে। এ আবস্থায় আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। সাংবাদিকদের মাধ্যমে পুলিশের কর্মকর্তা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে রায়েরবাজার এলাকার চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামি হাবিবুর রহমান ওরফে হাসুকে গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি এই বাহিনীর অত্যাচার থেকে বাঁচতে সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারি সংস্থার হস্তক্ষেপ কামনা করছি’।