দুর্নীতি, দুঃশাসন হটিয়ে অধিকার বঞ্চিত দেশের সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের মতো আরেকটি যুদ্ধ করে দেশে গণতন্ত্র, মানবাধিকারসহ সব সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতে চায় গণফোরাম।
শনিবার (২৬ নভেম্বর) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে ঢাকা মহানগর উত্তরের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে গণফোরাম নেতারা এসব কথা বলেন।
সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গণফোরাম সভাপতি মোস্তফা মোহসীন মন্টু বলেন, ‘এই ফ্যাসিস্ট সরকার ২০১৪ সালে বিনা ভোটের নির্বাচন ও ২০১৮ সনে মধ্য রাতের নির্বাচনে ঠকবাজদের সমন্বয় করে জনগণকে ধোঁকা দিয়েছে। জনগণ তাদেরকে আর বিশ্বাস করে না। সব জোচ্চুরি দেখিয়ে দিয়েছে এই সরকার। জোচ্চুরি আর হবে না। জনগণ আর হতে দেবে না।’
তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সম্মেলনে ঘোষণা দিয়েছিলাম অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ছাড়া গণফোরাম কখনো নির্বাচনে যাবে না। এখন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি নিয়ে আমরা রাজপথে থাকব। আমাদের সাথে যারা সুর মেলাবে, মাঠে আসবে আমরা তাদের পাশেই থাকব। তাদেরকে সাথে নিয়ে যুগপৎ আন্দোলন করব। প্রয়োজনে আমরা আত্মত্যাগ করব, আত্মাহুতি দেব।’
মন্টু বলেন, ‘রাজনৈতিক দলের বিভেদ আমরা চাই না। আমরা চাই সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশ। যে রাষ্ট্রে মুক্তিযুদ্ধের সত্যিকারের চেতনা নিয়ে অত্যাচার-অবিচারবিহীন, লুটপাটবিহীন, পরিবেশ খেকো-বালু খেকো-নদী খেকোরা থাকবে না, ব্যাংক লুটেরারা থাকবে না, জোর-জবরদস্তি করে জমি দখল-কারখানা দখল হবে না। সেই একটা দেশ আমরা গড়তে চাই।’
সম্মেলনে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক ড. আবু সাইয়িদ, প্রধান বক্তা ছিলেন গণফোরাম সাধারণ সম্পাদক সিনিয়র অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী। আরও বক্তব্য রাখেন গণফোরাম নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট এ কে এম জগলুল হায়দার আফ্রিক, অ্যাডভোকেট মহিউদ্দিন আব্দুল কাদের, সভাপতি পরিষদ সদস্য মেজর (অব.) আসাদুজ্জামান বীর প্রতীক, আতাউর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা খান সিদ্দিকুর রহমান, বাংলাদেশ পিপলস পার্টির মহাসচিব আব্দুল কাদের, গণফোরাম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লতিফুল বারী হামিম, ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ রওশন ইয়াজদানী, খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আলীনূর খান বাবুল, তথ্য ও গণমাধ্যম সম্পাদক মুহাম্মদ উল্লাহ মধু, সাহিত্য-সংস্কৃতি সম্পাদক ও ঢাকা জেলা গণফোরামের সভাপতি আব্দুল হামিদ মিয়া, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিবুর রহমান বুলু প্রমুখ।
এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় সংগীত গেয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে ঢাকা মহানগর উত্তরের সম্মেলনের উদ্ভোধন করা হয়। সম্মেলন থেকে এম এ কাদের মার্শালকে সভাপতি ও এরশাদ জাহান সুমনকে সাধারণ সম্পাদক করে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়।