জঙ্গিবাদ ও আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে র‌্যালি ও পথসভা

গত ২৬ নভেম্বর বিকাল ৩টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে দেশের চলমান সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে এবং উদীয়মান পাকিস্তানি দালালদের প্রতিহত করতে এক জনসচেতনতামূলক র‌্যালি ও পথসভার আয়োজন করে সচেতন নাগরিক সমাজ বাংলাদেশ। উক্ত পথসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা শাহাদাত হোসেন। মোহাম্মদ মীর হোসেন এর সভাপতিত্বে উক্ত পথসভায় আরো উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের চট্টগ্রাম জেলার যুগ্ম আহ্বায়ক মাওলানা সিরাজুল ইসলাম। সদস্যসচিব আব্দুল মনসুর সদস্য সুমন বিশ্বাস মাওলানা জুবায়দ হোসেন প্রমুখ।

সভায় বক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক জঙ্গিবাদের মদদপুষ্ট সন্ত্রাস বাংলাদেশের দিন দিন যেভাবে বেড়ে চলছে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। একাত্তরের পরাজিত শক্তি পাকিস্তান এই জঙ্গিবাদের লালন-পালনকর্তা। ৯ ১১ এ আমেরিকার টুইন টাওয়ার হামলা ব্রিটেনে ক্রীড়া অনুষ্ঠানে বোমা হামলা ভারতের সংসদ ভবনে হামলা ২৬-১১তে মুম্বাইয়ে সিরিজ হামলা পুলওয়ামা হামলা সহ পৃথিবীতে প্রায় প্রত্যেকটি হামলার পেছনে পাকিস্তানের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততা প্রমাণিত। আফগানিস্তানে তালেবানি শাসন তৈরি করাসহ বিশ্ব সন্ত্রাসে সরাসরি মদদ দিয়ে চলছে পাকিস্তান।

বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকেই এই সন্ত্রাসবাদের ষড়যন্ত্র ও আক্রমণের শিকার। যার ধারাবাহিকতায় ক্রিকেট খেলার সময় স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের মাটিতে পাকিস্তানের পতাকা তুলে পাকিস্তান এই বাংলার মাটিতে তাদের দৃঢ় অবস্থানের জানান দেয়। যা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের অপমান, স্বাধীনতার অপমান। এ ঘটনার মাধ্যমে পাকিস্তান আমাদের ইঙ্গিত দিচ্ছে যে তারা আরো বড় ও ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছে।

এই ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছে একাত্তরের পরাজিত রাজাকার আল বদরের উত্তরসূরিরা। যারা অতীতে ২০০৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি একত্রে সাতটি বোমা বিস্ফোরণ ২৫ সালের ১৭ আগস্ট দেশের ৫০টি শহরের তিন শটি স্থানে একযোগে ৫০০ সিরিজ বোমা হামলা। ২০১৬ সালে হলি আর্টিজেনের জঙ্গি হামলা সহ হাজার হাজার হামলা ঘটিয়েছে। সম্প্রতি ঢাকার সিজিএম আদালতের সামনে থেকে জঙ্গি ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা আমাদের নিরাপত্তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। 

বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এধরনের ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল। এবং এদের প্রতিহত করতে শতভাগ আন্তরিক। তিনি জঙ্গিমুক্ত দেশ গঠন করার জন্য প্রায় সাড়ে ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। কিন্তু প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরে সেই পাকিস্তানি প্রেতাত্মা দেশপ্রেমিকের মুখোশ পরে ঘাপটি মেরে লুকিয়ে আছে এদের প্রত্যেককে চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনা এবং এর পেছনে আর্থিক ও যাবতীয় মদদ বন্ধ করতে না পারলে পুরোপুরি সন্ত্রাস নির্মূল অসম্ভব।

২০১৫ সালে দু'বার পাকিস্তান হাইকমিশনারের কর্মকর্তা দ্বারা জঙ্গিবাদের অর্থ সহযোগিতার প্রমাণ পাওয়া গেছে এ জন্য অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা স্বার্থে বাংলাদেশে পাকিস্তান দূতাবাস বন্ধ করা এবং পাকিস্তানকে কড়া হুঁশিয়ারি প্রদান করতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি অনুরোধ জানাই। কারণ, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি পাকিস্তান যতদিন পর্যন্ত সন্ত্রাসের রাষ্ট্রীয় মদদ দেবে ততদিন বাংলাদেশ তো বটেই সারা বিশ্বের শান্তি প্রতিষ্ঠিত হওয়া অসম্ভব।