রাশিয়া নিষিদ্ধ, তাই তারা সার্বিয়া ভক্ত

মস্কোর একটি বারে টিভি স্ক্রিনে বিশ্বকাপের খেলা দেখছিলেন কয়েকজন ফুটবল ভক্ত। জাতীয় সংগীতের জন্য উভয় দল যখন সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে, বারে বসে থাকারা তখন লাল, সাদা ও নীল রং পরিধান করেছিলেন। তবে এই রংগুলো রাশিয়াকে প্রতিনিধিত্ব করছে ভেবে থাকলে ভুল হবে। ২০১৮ সালে যে দেশটি বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিল, ইউক্রেনে সৈন্য পাঠানোর জন্য এবার তারা ফিফা থেকেই নিষিদ্ধ। কাতার বিশ্বকাপে তাই রাশিয়া না থাকায় দেশটি ভক্তরা তাদের মিত্র দেশ সার্বিয়াকে সমর্থন করছেন।  

গত বৃহস্পতিবার রাতে মস্কোর বারে বসে সেই সমর্থকরা খেলা দেখেছেন। যদিও সেদিন ব্রাজিলের বিপক্ষে সার্বিয়া ২-০ গোলে হেরে গেছে। তবু সার্বিয়ানদের প্রতি রাশিয়ান ফুটবল ভক্তদের সমর্থন থাকবে।

এএফপির সঙ্গে কথা হয় কিরিল গনেভুচেভের সঙ্গে। পেশায় তিনি একটি রেফ্রিজারেশন সরঞ্জাম প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক। মস্কোর সেই বারে বসে কিরিল বললেন, ‘বিশ্বকাপে যতদূর তারা যাবে, আমাদের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। আমি মনে করি যে তারা আমাদের ভাই, জনগণ।’   

সার্বিয়ার সঙ্গে রাশিয়ার ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। সেটা এখনও অক্ষত আছে। মস্কোর এসব বারে বিশ্বকাপ উপলক্ষে ব্যস্ততা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। সেখানে গেলে মনে হয় ইউক্রেনে হামলা নিয়ে দেশটির জনগণের কোনো মাথাব্যথা নেই। যুবতীরা গালে সার্বিয়ান পতাকা এঁকে বারে বসে উল্লাস করছেন, আর অন্য ভক্তরা ভদকার গ্লাসে চুমুক দিতে দিতে ম্যাচ নিয়ে আলোচনা করছিলেন। যাদের ভিড়ে অনেক শখের বাজিকরদের দেখা মিলে।

তেমনই একজন রোমান মার্শাক। ৩৪ বছর বয়সী এই জুজু খেলোয়াড় হাসিমুখে বলেন, ‘আমি ব্রাজিলকে নিয়ে বাজি ধরি, কিন্তু মনে প্রাণে আমি সার্বিয়াকে সমর্থন করি। ব্রাজিল জিতলে আমি টাকা পাবো। কিন্তু সার্বিয়া জিতলে আমি খুশি হবো।’

যদিও রোমান শেষ পর্যন্ত টাকাটাই পেয়েছিলেন। কারণ ব্রাজিল ২-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছিল। তাই সার্বিয়ান এই সমর্থকের আর খুশি হওয়ার উপায় থাকার কথা না।