পাকিস্তানে সেরা সুন্দরীর তকমা পেয়েছেন তিনি। এ বছর 'মিস পাকিস্তান'-এর মুকুট উঠেছে তার মাথায়। কিন্তু সেই আনিশা শেখ নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রে। তাকে নিয়ে তারই দেশে আলোচনা থামছে না। পাকিস্তানের জনপ্রিয় মডেল আনিশা। তিনি মডেলিংয়ের পাশাপাশি গান এবং অভিনয়ও করেন। চলতি বছর 'মিস গ্র্যান্ড পাকিস্তান' প্রতিযোগিতায় তিনি অংশ নেন।
'মিস গ্র্যান্ড পাকিস্তান ২০২২'-এর তকমা পেয়েছেন আনিশা। এবার 'মিস গ্র্যান্ড ইন্টারন্যাশানাল'-এ তিনি পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করবেন। ২০ বছরের তরুণী আনিশার জন্য গর্বিত তার দেশ।
আনিশা বর্তমানে পাকিস্তানে নেই। তিনি নিউ ইয়র্ক ফ্যাশন উইকে অংশ নিচ্ছেন। সেখানেই ব্যস্ত। তবে সম্প্রতি সম্পূর্ণ ভিন্ন এক কারণে আলোচনয় এই তরুণী। কিছু দিন আগে আনিশা ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্ট করেন। নিউ ইয়র্ক ফ্যাশন উইকে তার সাজ দেখা গেছে সেই পোস্টের একাধিক ছবিতে। এ ছবি থেকেই বিতর্কের সূত্রপাত।
ছবিতে আনিশাকে দেখা গেছে কালো রঙের এক জমকালো লেহেঙ্গায়। এ সাজে নিজের মোট ৪টি ছবি পোস্ট করেন আনিশা। তার লেহেঙ্গায় রয়েছে কালোর ওপর নানা রঙের চোখ ধাঁধানো কারুকাজ। লেহেঙ্গার রঙের সঙ্গে মানানসই গয়নাও পরেছেন আনিশা। হার, কানের দুলের পাশাপাশি চুলও সাজিয়েছেন গয়নার চাকচিক্যে।
আনিশার পোস্ট করা ৪টি ছবির মধ্যে একটিতে তাকে দেখা গিয়েছে 'মিস গ্র্যান্ড পাকিস্তান ২০২২'-এর উত্তরীয় এবং মুকুট পরে থাকতে। জানা গেছে, জনপ্রিয় এক ভারতীয় ডিজাইনারের লেহেঙ্গায় সেজে নিউ ইয়র্ক ফ্যাশন উইকে পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করতে গেছেন আনিশা।
নিউ ইয়র্ক ফ্যাশন উইকে গিয়ে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ম্যাগাজিন 'ভোগ'-এ একটি সাক্ষাৎকার দেন এই তরুণ পাকিস্তানি মডেল। ইনস্টাগ্রাম পোস্টে সেই সাক্ষাৎকারের একটি অংশ তিনি শেয়ার করেন। লেখেন, 'সাংবাদিক আমাকে প্রশ্ন করলেন, আপনি তো পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করছেন। অথচ, নিউ ইয়র্ক ফ্যাশন উইকে আপনি ভারতীয় ডিজাইনার স্টাইলে সেজে হাঁটতে এসেছেন! এমন কেন? আমার উত্তর ছিল, যদি অন্য কারো তৈরি পোশাক, ৬ ইঞ্চি হিলের জুতো আর নকল চোখের পাতা পরলে রাজনীতি, প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঊর্ধ্বে দক্ষিণ এশিয়ার সংস্কৃতিকে একত্রিত করা যায়, তা হলে আমি আনন্দের সঙ্গেই এমন আরও অনেক পোশাক পরব।' তিনি আরও বলেন, 'যুদ্ধ, হানাহানি, হিংসা সরিয়ে ফ্যাশন যদি সকলকে একজোট করতে পারে, আমি ফ্যাশনের প্রতিনিধি হিসাবে তবে গর্ববোধ করছি।'
আনিশার মতে, ফ্যাশন এমন এক ক্ষেত্র, যা দেশ-বিদেশের সংস্কৃতি, সাজপোশাক এক জায়গায় এনে জড়ো করে। এটাই ফ্যাশনের কাজ। এই ফ্যাশনের মাধ্যমেই ভারত এবং পাকিস্তান- চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশের দ্বন্দ্ব ঘোচাতে চান আনিশা।
পাকিস্তানি এবং আমেরিকান আবহে বড় হয়েছেন আনিশা। তিনি জানান, ছোটবেলা থেকে তিনি শিখেছেন, কোনো দ্বন্দ্ব মেটাতে সবার আগে প্রয়োজন শ্রদ্ধা। একে অপরকে শ্রদ্ধার মাধ্যমে শান্তি স্থাপন করা সম্ভব। শান্তি স্থাপিত হলে জীবন হয়ে ওঠে আরও সুন্দর।
অভিনয়, গান-বাজনা এবং মডেলিংয়ের বাইরে সমাজসেবামূলক কাজও করে থাকেন আনিশা। দুঃস্থদের দিকে তাকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে দেখা গেছে বহুবার। পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত আনিশার জন্ম আমেরিকার কেন্টাকি প্রদেশে। তারা ৫ ভাই-বোন। আনিশাই সবচেয়ে ছোট, পরিবারে সবচেয়ে আদরের। ছোটবেলা থেকে তিনি খেলাধুলো করেন। সাঁতার, স্কেটিংয়ে দাপিয়ে বেড়াতেন চারদিকে। ৯ বছর বয়স থেকে স্কেটিং শুরু আনিশার। একটা সময় দিনে ৮ ঘণ্টা স্কেটিং করতেন তিনি। পরে স্কেটিং ফেলে হাতে তুলে নেন গিটার। গানের সুরে খুঁজে পান মনের শান্তি। নিজের একাধিক গান লিখে তাতে সুর দেন আনিশা। গান-বাজনার পাশাপাশি ফ্যাশনের দিকেও আনিশার ঝোঁক ছিল। ধীরে ধীরে তা বাড়তে থাকে। ২০২০ সালে তিনি 'মিস মিশিগান টিন ইউএসএ' প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। জয়ের মুকুট ওঠে তার মাথাতেই।
মাত্র ২০ বছর বয়সেই গ্ল্যামার দুনিয়ায় নিজের জায়গা পাকা করে ফেলেছেন পাকিস্তানের আনিশা। তার উচ্চতা মডেলিংয়ে তার সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি বলে মনে করেন কেউ কেউ। চোখধাঁধানো ফটোশুটের জন্য বারবার বিনোদন জগতের শিরোনামে উঠে আসেন আনিশা। সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস