এবার ৩০০ কিলোমিটার পথ হাঁটার উদ্যোগ নিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধের গল্পের ফেরিওয়ালা বীর মুক্তিযোদ্ধা বিমল পাল। আগামী ১ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পরবর্তী প্রজন্মকে উজ্জীবিত করতে ময়মনসিংহের সার্কিট হাউজ মুজিব চত্বরে বিজয় পদযাত্রার অনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে।
পরে জেলার বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে তিনশ কিলোমিটার পথযাত্রা শেষ করে একই স্থানে সমাপ্তি ঘোষণা করা হবে।
মঙ্গলবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সম্মেলনে এ তথ্য জানান বীর মুক্তিযোদ্বা বিমল পাল।
তিনি জানান, আগামী ২ ডিসেম্বর ভোর ৬টায় নগরীর টাউন হল থেকে পদযাত্রা শুরু করবেন। প্রথম দিনে মুক্তাগাছা উপজেলা হয়ে যাত্রাবিরতি শেষে ফুলবাড়িয়া উপজেলার উদ্দেশ্যে রওনা করবেন। এভাবে ত্রিশাল, ভালুকা হয়ে গফরগাঁও যাবেন ৪ ডিসেম্বর। ৫ ডিসেম্বর গফরগাঁও থেকে যাত্রা শুরু করে দেওয়ানগঞ্জ হয়ে নান্দাইল উপজেলা সদরে রাত্রিযাপন করবেন। ৬ ডিসেম্বর ঈশ্বরগঞ্জ হয়ে গৌরীপুর। পরদিন ৮ ডিসেম্বর নেত্রকোনার শ্যামগঞ্জ হয়ে পূর্বধলায় রাত্রি যাপন শেষে ভোরে চেচুঁয়া বিল হয়ে ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় রাত্রিযাপন।
৯ ডিসেম্বর ভোরে রওনা করে হালুয়াঘাটে রাত্রিযাপন। সেখান থেকে ১০ ডিসেম্বর ভোর ৪টায় যাত্রা শুরু করে ফুলপুর উপজেলা হয়ে তারাকান্দা উপজেলা যাত্রাবিরতি। সেখান থেকে রওনা দিয়ে বিকাল ৪টায় ময়মনসিংহ নগরীর পাটগুদাম চায়না ব্রিজ সংলগ্ন জয় বাংলা চত্বরে উপস্থিতি। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে নগরীর জিরো পয়েন্ট হয়ে টাউন হল-সার্কিট হাউজ সংলগ্ন মুজিব চত্বরে সমাপনী অনুষ্ঠান।
মুক্তিযোদ্ধার বিজয় পদযাত্রা সমন্বয় কমিটির আয়োজনে হাঁটা কর্মসূচিতে সহযোগিতা করবেন, সংশ্লিষ্ট থানা ও উপজেলা প্রশাসন, ক্লিন আপ বাংলাদেশ, ব্রহ্মপুত্র ব্লাড কল্যাণ সোসাইটি, ময়মনসিংহ সিটি সাইক্লিস্ট, হেল্পপ্লাস ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড।
সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা বিমল পাল, শংকর সাহা, ইয়াজদানী কোরায়শী কাজল এবং পদযাত্রা সমন্বয় কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান ফয়সাল।
উল্লেখ্য, এর আগে বাংলাদেশের ৫০ বছর পূর্তিতে হালুয়াঘাট থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত ৫০ কিলোমিটার হেঁটেছিলেন মুক্তিযোদ্ধা বিমল পাল। এছাড়াও একুশে পদকপ্রাপ্ত ময়মনসিংহের তিন গুণী ব্যক্তির সম্মানে পায়ে হেঁটে তাদের বাড়ি পরির্দশনে যান বীর মুক্তিযোদ্বা বিমল পাল।