ব্রাজিল প্রশংসায় পঞ্চমুখ আর্জেন্টিনা কোচ

ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার ফুটবল বৈরী বহুদিনের। খেলাটার জন্মের পর থেকেই এই দুই দলে দ্বিখ- গোটা বিশ্ব। কেউ কাউকে একরত্তি ছাড় দেওয়ার পক্ষে নয়। দোহাতেও হরহামেশাই দুই দলের সমর্থকদের মধ্য লেগে যাচ্ছে হট্টগোল। এক দল আরেক দলকে খাটো করতে চেষ্টার ত্রুটি নেই। এক দলের হারে আরেক দলের সমর্থকদের বুনো উল্লাসও করতে দেখা গেছে বিশ্বকাপের ভেন্যুগুলোতে।

লাতিন দুই প্রতিবেশীর যখন সাপে-নেউলে সম্পর্ক, ঠিক তখনই জ্বলন্ত উনুনে জল ঢেলে দিলেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। সোমবার সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে সেরা ষোলো নিশ্চিত করায় ব্রাজিলকে পিঠ চাপড়ে দিয়েছেন মেসিদের কোচ!

এক ম্যাচ হাতে রাখতেই সেলেসাওরা নিশ্চিত করেছে দ্বিতীয় পর্ব। আর্জেন্টিনার সেটা এখনো নিশ্চিত নয়। বুধবার তাদের পোল্যান্ডের কাছে দিতে হবে অগ্নিপরীক্ষা। এ ম্যাচে পা হড়কালেই শেষ হয়ে যাবে ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন।

এমন মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনিকে কথা বলতে হয়েছে ব্রাজিলের সাফল্য নিয়ে। প্রশ্নকর্তার এমন প্রশ্নে অনেকেই তার দিকে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকিয়েছেন। অনেকেই ভেবেছিলেন বিষয়টা নিয়ে কোনো কথাই বলবেন না আর্জেন্টিনার কোচ।

তবে সবাইকে অবাক করে দিয়ে স্কালোনি ব্রাজিলকে ভাসিয়েছেন প্রশংসায়, ‘একজন দক্ষিণ আমেরিকান হিসেবে আমি সত্যি তাদের সাফল্যে আনন্দিত। কে কীভাবে চিন্তা করে, আমি জানি না। শুধু বলতে চাই, আমি নিজেকে দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবলের অন্যতম ভক্ত হিসেবে ভাবি। আমার অনেক ঘনিষ্ঠ ব্রাজিলিয়ান বন্ধু আছে। শুধু বলতে চাই, যদি আর্জেন্টিনা ব্যর্থ হয়, তবে খুব করে চাইব দক্ষিণ আমেরিকার কোনো দল শিরোপা জিতুক। নির্দ্বিধায় বলতে চাই, তারা (ব্রাজিল) সত্যিই দুটি ম্যাচে অসাধারণ ফুটবল খেলে জিতেছে এবং আমি এ সাফল্যের জন্য তাদের অভিনন্দন জানাই।’

জাতিগত বৈরিতা সত্ত্বেও দুই দেশের দুই তারকা মেসি ও নেইমারের মধ্যে রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। সেটা ক্লাবপর্যায়ে দীর্ঘদিন একসঙ্গে খেলার সুবাদে। এবার স্কালোনির ব্রাজিল প্রীতিতে হয়তো একটু দমে যাবেন আর্জেন্টাইন সমর্থকরা।

তবে এটাও ঠিক, এ আসরে দুই দল যদি কোনো পর্যায়ে মুখোমুখি হয়, তখন কিন্তু এ সম্প্রীতিটা দেখাবেন না স্কালোনি। যেমনটা দেখাননি গত বছর কোপা আমেরিকার ফাইনালে। মেসি-নেইমারও নিশ্চিত বন্ধুতা ভুলে লড়বেন সেরার লড়াইয়ে।