সরকার তার পতনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে: রিজভী

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সরকার তার পতনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। তাই আগামী ১০ ডিসেম্বর বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশকে সামনে রেখে ‘পোড়া মাটি নীতি’ অবলম্বন করেছে। বিরোধী দলের শান্তিপূর্ণ গণসমাবেশ বানচাল করতে অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

আজ বুধবার (৩০ নভেম্বর) নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। 

রিজভী বলেন, আওয়ামী জালেম সরকারের বিরুদ্ধে জনগণ ফুঁসে উঠেছে। তাদের সব অন্যায়-অবিচার, অপকর্মের বিচার দেশের জনগণ করবেই। আর যারা এই নিশিরাতের সরকারকে সহযোগিতা করছেন তারা এসব বন্ধ করুন। জনগণের পায়ের আওয়াজ শুনুন। শেখ হাসিনার ১৫ বছরের অবৈধ মসনদ খান খান হয়ে যাবে। শেষ রক্ষা পেতে সরকার আবারও সেই পুরোনো খেলা শুরু করেছে।

তিনি বলেন, বিএনপির নেতা কর্মীদের হত্যা-নির্যাতন ও মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। গণমাধ্যমের শিরোনাম হচ্ছে অসংখ্য ককটেল ফাটানোর অভিযোগে পুলিশের মামলা দায়ের, কিন্তু কেউ ককটেল ফুটতে দেখেনি বা শোনেনি। কারওয়ান বাজারে ককটেল বিস্ফোরণ মামলায় আসামি বিএনপি নেতা কর্মীরা। কিন্তু ককটেল বিস্ফোরণের কোনো শব্দ পায়নি এলাকাবাসী। নারায়ণগঞ্জে পুলিশের মামলায় জাপানে থাকা প্রবাসী ছাত্রদল নেতা গায়েবি মামলার আসামি। বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মাহবুবুল ইসলাম মাহবুবকে গত মঙ্গলবার রাতে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে উঠিয়ে নিয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত তার কোনো হদিস দিচ্ছে না। এ নিয়ে দল ও তার পরিবার গভীর উৎকণ্ঠায় রয়েছে। তাকে ডিবি পুলিশই তুলে নিয়ে গেছে। অবিলম্বে তাকে জনসম্মুখে হাজির করতে হবে।

রিজভী অভিযোগ করে বলেন, গত রবিবার ছাত্রদলের সাবেক নেতা ও ২০১৮ সালের শরীয়তপুর-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী মিয়া নুরুদ্দীন অপুকে দুদুকের একটি ফরমায়েশি ভুয়া মামলায় ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। তিনি প্রচণ্ড অসুস্থ। বিএনপির একজন সাবেক সংসদ সদস্য প্রার্থীকে এহেন নিপীড়ন-নির্যাতন-অসম্মান নজীরবিহীন। কোনো সভ্য সমাজে এই ধরনের জুলুম-নির্যাতন-ডান্ডাবেড়ি পরানোর মতো ন্যক্কারজনক ঘৃণ্য-বর্বরোচিত চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের কাজ হতে পারে না। মিয়া নূর উদ্দিন অপু কোনো খুন বা ডাকাতি মামলার আসামি নন। তিনি বর্তমান ফ্যাসিস্ট সরকারের ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলার আসামি।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সহ-স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, যুববিষয়ক সহসম্পাদক মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, নির্বাহী কমিটির সদস্য তারিকুল আলম তেনজিং, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতা অধ্যাপক ওয়াহিদ বিন ইমতিয়াজ বকুল প্রমুখ।