আপনার শর্ত দেওয়ার দিন শেষ, এখন শর্ত দেবে বিএনপি: গয়েশ্বর

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ‘আমরা সমাবেশ করব পল্টনে, আমরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যান চাই নাই। ওনারা কাগজ পাঠায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের। আবার সঙ্গে দিছে ২৬টা শর্ত। আমি বলব সরকারকে আপনার শর্ত দেওয়ার দিন শেষ, এখন শর্ত দেবে বিএনপি। ঢাকায় সমাবেশ হবে নয়াপল্টনেই।’

তিনি সরকারকে পাল্টা শর্ত দিয়ে বলেন, ‘প্রথম শর্ত রাস্তাঘাটে পুলিশ ও আপনার দলীয় কর্মীরা কোনো বাধা দেওয়ার চেষ্টা করবেন না। অকারণে দূরদেশ থেকে যারা আসবে তাদের গাড়ি-ঘোড়া আটকাবেন না, আজকে থেকে বাংলাদেশের সব অঞ্চলে গায়েবি মামলা বন্ধ করুণ। রাতে নেতার্মীদের বাড়িতে হানা দেওয়া বন্ধ করুণ। তা না হলে আমরা মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকবাহিনীর ঘাটে যেভাবে হানা দিয়েছি, ওইভাবে আবার হানা দেওয়ার জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘যা কিছু অসৎ পথে কামিয়েছেন এগুলো ফেরত দিতে হবে। শেয়ার মার্কেটের ৮৬ হাজার কোটি টাকা, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ সাড়ে ৬ শ কোটি টাকা, ১০ লাখ কোটি বিদেশে পাচার করা টাকা ফেরত দিতে হবে। এ টাকা বাংলাদেশের জনগণের, এ টাকা ফেরত দিতে হবে’।

‘দেশব্যাপী পুলিশের ‘মিথ্যা ও গায়েবি মামলা, নির্যাতন ও গ্রেপ্তারের’ প্রতিবাদে বুধবার বেলা ১২টায় বরিশাল মহানগর বিএনপি আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন।

তিনি বলেন, ‘একতরফা খেলা হয় না, একজন আছেন প্রতিদিন বলেন খেলা হবে, খেলা হবে। কিন্তু কী খেলা হবে? খেলা জানেন? খেলা শিখেন। যে খেলাই খেলেন সব খেলার কিন্তু একটা নিয়মকানুন আছে। আপনারা কোন নিয়মকানুন জানেন যে খেলবেন? যারা দিনের ভোট রাতে কাটে তাদের সঙ্গে বিএনপি খেলে না। যেদিন দিনের ভোট দিনে হবে, জনগণ যার যার ভোট তার পছন্দ মতো যাকে খুশি তাকে দিতে পারবে সেদিন বিএনপি খেলবে। তাই নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিলে দেখা যাবে, কত খেলতে পারেন।’

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আজকে খালেদা জিয়া নির্বাচন করতে পারবেন না বলছেন আইনমন্ত্রী, তারেক রহমান নির্বাচন করতে পারবেন না বলছেন, ঠিক আছে নির্বাচনটা দেন, সরকার থেকে নামেন, পুলিশ পাহারা থেকে চলাচল বন্ধ করেন, যার যার বাড়ি থেকে নির্বাচনে নামেন, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন। সেদিন আমরা খেলব, আপনারা কত খেলতে পারেন। বাংলাদেশের জনগণের কাছে ক্ষমা চান। খালেদা জিয়ার বাসভবনে গিয়ে তার কাছে ক্ষমা চান। যাতে আগামী দিনে সবাই শান্তিপূর্ণভাবে বাংলাদেশে থাকতে পারেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা অবস্থান ধর্মঘট দেই নাই ১০ তারিখে, আমরা বলেছি সমাবেশ। এই সমাবেশে কী হবে কবে যাবেন, কীভাবে যাবেন, তার একটা তারিখ-ক্ষণ আপনাদের সামনে হাজির করা। বিএনপি সরাসরি আপনাকে বলে দিবে।’

গয়েশ্বর বলেন, ‘আমরা আপনাকে পদত্যাগ করাতে বাধ্য করব। এ কথাগুলো আমরা জানাব তারিখ বাই তারিখ। আমরা আপনাকে জানাব আমরা ভোটের অধিকার চাই, আমরা সুষ্ঠু-অবাধ নির্বাচন চাই, লুটপাটকৃত টাকা ফেরত চাই এবং গুম-খুনের হিসাব চাই, বিচার চাই।’

তিনি বলেন, ‘লাগাতারভাবে সরকার পুলিশের মাধ্যমে অকারণে মিথ্যা এবং গায়েবি মামলা অনবরত দিচ্ছে। এটা যেন তাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কোনো কারণ নাই, কোন ঘোষণা নাই, আবার মামলা দেয় তো দেয়ই... তার মধ্যে বিস্ফোরক! বরিশাল শহরে রিকশার টায়ার ফাটার শব্দ মানুষ শোনে না, অথচ বিস্ফোরকের মামলা দেয়, যার শব্দ জনগণ শোনে না’।

বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘গত ৫ নভেম্বর বরিশালে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশে পটুয়াখালী থেকে অংশগ্রহণ করতে আসা একটি মিছিল ছিল সাবেক এমপি মো. শাহজাহান খানের নেতৃত্বে। পুলিশের নাকের ডগায় আওয়ামী লীগের গুন্ডাবাহিনী তাকে নির্মম নির্যাতন করার মধ্য দিয়ে তাকে অসুস্থ করে এবং ঢাকায় গেলে দেখা যায় তার কিডনি দুইটাই নষ্ট। পুলিশ এখনো মামলা নেয় নাই, কাউকে গ্রেপ্তার করে নাই। পটুয়াখালীতে দায়িত্বরত পুলিশের লোকেরা ওখানে উপস্থিত ছিল- যখন শাহজাহান খানকে নির্যাতন করা হচ্ছিল। তাদের চোখ দুটি অন্ধ ছিল না’।

তিনি বলেন, ‘এ সরকার বিএনপি সমাবেশে বাধা দিয়েছে তারপরও সমাবেশ সফল হয়েছে। আমাদের সমাবেশ করতে যে কয় টাকা খরচ হয়েছে তার চেয়ে পাঁচগুণ টাকা বেশি খরচ হয়েছে সরকারের সমাবেশ পণ্ড করার জন্য। আমাদের স্বাভাবিক সমাবেশ যদি করতে দিত তাহলে তাদের রাষ্ট্রীয় কোষাগারের টাকা খরচ হতো না।’

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘এখন আর দুটি জায়গা বাকি আছে, রাজশাহী আর ঢাকা। এখানেও তারা পরাজিত। রাজশাহীতে ৩ তারিখের সমাবেশে এখনো তারা অনুমতি দেয় নাই। অথচ ২৯ তারিখ, ১০ তারিখের অনুমোদন পাঠিয়েছে’।

মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন জাতীয় নির্বাহী কমিটির বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান, মাহাবুবুল হক নান্নু, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য এবায়দুল হক চাঁন, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হোসেন খান, সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবুল কালাম শাহীন, উত্তর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মিজানুর রহমান খান মুকুলসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশ সঞ্চালনা করেন মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট মীর জাহিদুল কবির জাহিদ।