১৯৮৯-র পর ২০২২। ৩৩ বছর পর ফের চীনে গণ অসন্তোষ। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এর পদত্যাগের দাবিতে পথে নেমেছেন হাজার হাজার মানুষ। এদের একটা বড় অংশই বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। বুকে প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে ‘জিনপিং নিপাত যাক’ স্লোগান দিতে দেখা গিয়েছে তাদের। প্রথমে সাংহাইতে শুরু হলেও ধীরে ধীরে এই গণবিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে গুয়াংঝাও, শিনজিয়ান ও বেইজিংয়ে।
আন্দোলনকে স্তব্ধ করতে নিরাপত্তা বাহিনীকে দমন নীতি প্রয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। পাশাপাশি, সেনাবাহিনীকেও তৈরি থাকতে বলেছেন তিনি। কিন্তু কীভাবে হঠাৎ করে শুরু হল এই গণবিক্ষোভ? নেপথ্যে রয়েছে কোনও বিদেশি শক্তির হাত? নাকি অন্তর্ঘাতের জেরেই চরম আকার ধারন করেছে বিক্ষোভ? আন্দোলনের ঝাঁঝ তীব্র হতেই এই নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে চুল চেরা বিশ্লেষণ। আর তাতেই উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের দাবি, এবারের গণবিক্ষোভের সঙ্গে বহু অনেক মিল রয়েছে ১৯৮৯ সালের গণ আন্দোলনের। ১৯৮৭ সালে চীনা কমিউনিস্ট পার্টি বা সিপিসি-র ১৩ তম পার্টি কংগ্রেসের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই সম্মেলনে দলের জেনারেল সেক্রেটারির পদ থেকে ইউ ইয়াওবাংকে ছেঁটে ফেলা হয়। ঐতিহাসিকদের একাংশের দাবি, দলের এই সিদ্ধান্তের পরই ভেতরে ভেতরে চক্রান্ত শুরু করে দেন ইউ ইয়াওবাং। ১৯৮৯-র গণ আন্দোলনের নেপথ্যে কাজ করেছিল তারই মস্তিষ্ক।
চলতি বছরের অক্টোবর মাসে বেইজিংয়ের গ্রেট হলে সিপিসি-র ২০ তম পার্টি কংগ্রেস হয়। সেখানে জেনারেল সেক্রেটারি পদে তৃতীয়বারের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন শি জিনপিং। কিন্তু দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারক কমিটি পলিটব্যুরো থেকে বাদ পড়েছেন চারজন। বিশেষজ্ঞদের দাবি, ১৯৮৯-র মতো এবারের আন্দোলনের নেপথ্যেও রয়েছেন কমিউনিস্ট পার্টির এই সব বাদ পড়া সদস্যরা।
অন্যদিকে তাইওয়ান নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের সংঘাত বেড়েই চলেছে। চলতি বছরে বেশ কয়েকবার তা চরম আকার নিয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, এই আবহে চীনের ভেতরে জাল বিছাতে শুরু করেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। চীনা কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে জিনপিং বিরোধীদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে দিয়েছেন তারা। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তা নিয়েই সিপিসির ওই সব নেতারা এই আন্দোলনকে পেছন থেকে মদদ যোগাচ্ছেন বলে দাবি বিশেষজ্ঞদের একাংশের।
১৯৮৯-তে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে উঠেছিল চীনে। সেবার গণবিক্ষোভ বন্ধ করতে সেনা শাসনের নির্দেশ দেয় চিনা কমিউনিস্ট পার্টি। ফলে বেইজিংয়ের রাস্তায় নামে ট্যাঙ্কে। চীনা সেনাদের গুলিতে মৃত্যু হয় অন্তত ২০০ জন আন্দোলনকারীর। এবারের আন্দোলনেও গুলি চলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।