রাশিয়া বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জার্মানিকে হারিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল কোরিয়া। এবার কাতারেও নিজেদের প্রথম ম্যাচে তারা রুখে দেয় উরুগুয়েকে। যদিও কোস্টারিকার বিপক্ষে জিততে পারেনি তারা। আজ শেষ ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ পর্তুগাল। টানা দুই ম্যাচ জিতে যারা ইতিমধ্যে শেষ ষোলোতে উঠে গেছে। সেই দলটাকে হারাতে পারলেই কপাল খুলে যেতে পারে কোরিয়ানদের। এই ম্যাচে যে খেলবেন না পর্তুগিজ তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।
সিআরসেভেনের না খেলার আভাস পাওয়া যায় বুধবারই। সেদিন দলীয় অনুশীলনে আসেননি পর্তুগিজ তারকা। গুঞ্জন উঠে উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে তার নামে গোল না হওয়ায় বেজায় চটেছেন। সেই ক্ষোভে অশান্তি বাড়ে দলের ভেতরে। তাই অনুশীলনেও আসেননি তিনি। একাই জিমে ঘাম ঝড়ান তিনি।
অবশেষে গতকাল বৃহস্পতিবার পর্তুগাল কোচ ফার্নান্দো সান্তোস নিশ্চিত করেছেন, শেষ ম্যাচে রোনালদো খেলবেন না। তবে ৩৭ বছর বয়সী এই ফুটবলারের বদলি হিসেবে কাকে খেলানো হবে তা নিয়ে ধোঁয়াশাই রাখেন সান্তোস।
তিনি বলেছেন, গতদিন সে অনুশীলন করেন। অর্ধেক অনুশীলন করা একজন ফুটবলারকে খেলিয়ে ঝুঁকি বাড়াতে চাই না। তবে সে দ্রুতই অনুশীলনে ফিরবে।
তবে বুধবারের অনুশীলনে শুধু রোনালদোই নন। একইভাবে অনুশীলন মিস করেছেন পর্তুগিজ মিডফিল্ডার ওতাভিউ। এছাড়া পিএসজির জুটি দানিলো পেরেইরা ও নুনো মেন্দেসও এদিন অনুশীলনে ছিলেন না। ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশমের মতো সান্তোসও সাইড বেঞ্চ বাজিয়ে দেখতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পর্তুগালের জুনিয়র ফুটবলাররা এখনো চোট থেকে সেরে ওঠার জন্য লড়াই করছেন।
আর এ কারণেই দক্ষিণ কোরিয়াকে হাতছানি দিচ্ছে পর্তুগাল বধের। তবে ইউরোপের দেশটির যেমন মূল খেলোয়াড়রা থাকবেন বিশ্রামে, তেমনি ডাগআউটে দেখা যাবে না দক্ষিণ কোরিয়ার কোচকেও। ঘানার বিপক্ষে ম্যাচটিতে লাল কার্ড দেখেন পাউলো বেনতো। তবে তিনি নিজেও পর্তুগিজ হওয়ায় সান্তোসের ছক কেমন হতে পারে, সেটা তার ভালোই জানা আছে। তাই মাঠে দেখা না গেলেও মূল ছকটা কষে দিতে পারেন তিনি নিজেই।
এক ড্র, এক পরাজয় নিয়ে কোরিয়া আছে পয়েন্ট তালিকার তিন নম্বরে। শেষ ম্যাচটা জিতলেই জ্বলে থাকবে আশার সলতেটা। ঘানা যদি উরুগুয়ের কাছে হেরে যায় আর গোল ব্যবধানে যদি কোরিয়ানরা এগিয়ে থাকেন, তবেই নিশ্চিত হবে কোরিয়ানদের সুপার ফোর। আর জয়টা হবে বিশ্বকাপের অন্যতম সাফল্যের একটি। যেমনটা হয়েছিল রাশিয়াতে জার্মানিকে হারিয়ে।