ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজ্য গুজরাটে নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে বাংলাদেশি, বাঙালি ও রোহিঙ্গাদের নিয়ে বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন বলিউডের অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ পরেশ রাওয়াল। এবার সেই মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন তিনি।
গত মঙ্গলবার গুজরাটের ভালসাদে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির এক সমাবেশে তিনি বলেন, গুজরাটের জনগণ মূল্যস্ফীতি সহ্য করতে পারে কিন্তু পাশের ঘরে ‘বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গাদের’ সহ্য করতে পারবে না।
তার ওই মন্তব্য তুমুল সমালোচনার জন্ম দিলে শুক্রবার তিনি ক্ষমা চেয়ে টুইট করেছেন। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে গুজরাটের বিধানসভা নির্বাচন।
ওই সমাবেশে পরেশ বলেন, ‘গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে, দাম কমে আসবে। লোকজন চাকরিও পাবে। কিন্তু কী হবে, যদি রোহিঙ্গা শরণার্থী আর বাংলাদেশিরা আপনাদের চারপাশে বসবাস শুরু করে, দিল্লির মতো? গ্যাস সিলিন্ডার দিয়ে আপনারা কী করবেন? বাঙালিদের জন্য মাছ রাঁধবেন?’
তিনি আরও বলেন, ‘গুজরাটের মানুষ মূল্যবৃদ্ধি সহ্য করবে। কিন্তু এগুলো নয়…যেভাবে তারা কুকথা ব্যবহার করেন, তাদের মাঝে থাকতে সাধারণ মানুষকে মুখেও ডায়পার পরতে হবে।’
ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় শিল্প প্রধান এই রাজ্যটিতে ১৯৯৫ সাল থেকে একটানা ক্ষমতায় আছে বিজেপি। রাজের ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ নিয়েই পরেশ নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন।
সমাবেশে পরেশ আম আদমি পার্টির নেতা দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালেরও কড়া সমালোচনা করেন। গুজরাট রাজ্য বিধানসভার নির্বাচনে বিজেপির বড় প্রতিদ্বন্দ্বী আম আদমি পার্টি (এএপি) ।
আম আদমির আমলে দিল্লিতে ‘বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গায়’ ভরে গেছে আর গুজরাটে দলটি জিতলে সেখানেও এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, এমন ইঙ্গিত করেই পরেশ ওসব কথা বলেন।
তার এ বক্তব্যের পরপরই ভারতজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়। বাঙালিদের নিয়ে পরেশের মন্তব্যকে অনেকে ‘বিদ্বেষমূলক’ অ্যাখ্যা দেন। কেউ কেউ বলেন, বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের টেনে তিনি ‘জাতি অবমাননা’ করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল সমালোচনার মুখে পরেশ রাওয়াল পরে শুক্রবার সকালে ক্ষমা চেয়ে টুইট করেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘অবশ্যই মাছ এখানে কোনো বিষয় নয়, কারণ গুজরাটিরাও মাছ রান্না করে ও খায়। বাঙালি বলতে কী বুঝিয়েছি, তার ব্যাখ্যা দিচ্ছি। বাঙালি বলতে আমি অবৈধ বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের বুঝিয়েছি। এরপরও যদি আমি আপনাদের আবেগ-অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে থাকি,তাহলে আমি ক্ষমা প্রার্থী।’