‘প্রজাপতি প্রজাপতি কোথায় পেলে ভাই এমন রঙিন পাখা’ রঙের ছটায় মোহিত করে কাজী নজরুল ইসলামের কবিতায় যে সুর উঠেছিল, তা আরও একবার বেজে উঠল।
শুক্রবার (ডিসেম্বর) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনের সামনে হওয়া প্রজাপতি মেলায় ‘টুকটুকে লাল নীল ঝিলিমিলি আঁকাবাঁকা’ পাখা দেখে শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সি মানুষই মুগ্ধ হয়েছে। এদিন প্রজাপতির রঙের ছটায় রঙিন হয়ে উঠেছিল সবার মন। ক্ষণস্থায়ী সৌন্দর্য ও পুনর্জন্মের প্রতীক হিসেবে বলে আসা এই পতঙ্গই হবে মানুষের প্রকৃতি সচেতনার অনুষঙ্গ এমন ভাবনা থেকে ২০১০ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো এই মেলা হয়েছিল। এবার ছিল মেলার ১২তম আসর।
দিনব্যাপী এ মেলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী এলাকাসহ রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা এসেছিল। দর্শনার্থীদের মধ্যে শিশু-কিশোরদের সংখ্যা ছিল চোখে পড়ার মতো।
সাভারের শিমুলতলা থেকে বাবা-মায়ের সঙ্গে মেলায় এসেছিল দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী নাফিসা তারাননুম। নাফিসা দেশ রূপান্তরকে বলেন, মাঝে মাঝে টেলিভিশনে কিংবা বইয়ে প্রজাপতি দেখা হয়। বাস্তবে খুব কমই সুযোগ হয় প্রজাপতি দেখার। মেলায় এসে সুন্দর সুন্দর প্রজাপতি দেখে খুব ভালো লাগছে।
এবারের মেলায় ছিল জীবন্ত প্রজাপতি প্রদর্শনী, প্রজাপতির হাট দর্শন, শিশু-কিশোরদের জন্য প্রজাপতি বিষয়ক ছবি আঁকা ও কুইজ প্রতিযোগিতা, প্রজাপতি বিষয়ক আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনী। এছাড়া প্রজাপতি চেনা প্রতিযোগিতা, প্রজাপতির আদলে তৈরি ঘুঁড়ি উড়ানো ও বারোয়ারি বিতর্ক প্রতিযোগিতা ছাড়াও তথ্যচিত্র প্রদর্শন ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান। প্রথমবারের মতো এবারের মেলায় প্রজাপতির গল্পে ‘পাপেট শো’ হয়।
প্রকৃতি সংরক্ষণে সার্বিক অবদানের জন্য এবারের প্রজাপতি মেলায় ‘তরুপল্লব’ সংগঠনকে ‘বাটারফ্লাই অ্যাওয়ার্ড-২০২২’ প্রদান করা হয়। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী দীপ্ত বিশ্বাসকে দেওয়া হয় ‘বাটারফ্লাই ইয়াং ইনথুসিয়াস্ট’ অ্যাওয়ার্ড।
‘উড়লে আকাশে প্রজাপতি, প্রকৃতি পায় নতুন গতি’ স্লোগানে এদিন বেলা ১১টায় মেলার উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মো. মনজুরুল হক। এসময় তিনি বলেন, প্রজাপতি নানাভাবে আমাদের উপকারে আসে। প্রকৃতিতেও এর অবদান অনেক। প্রজাপতি না থাকলে পরাগায়ন হবে না। পাশাপাশি প্রজাপতির সৌন্দর্য আমাদের মনকে আপ্লুত করে। তাই প্রজাপতিকে টিকিয়ে রাখতে হবে। এ লক্ষ্যে প্রতিবছর যে মেলার আয়োজন করা হচ্ছে এটি খুবই প্রশংসনীয়।
মেলার আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মনোয়ার হোসেন বলেন, প্রকৃতি থেকে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে প্রজাপতি। আগে জাহাঙ্গীরনগরে ১১০ প্রজাতির প্রজাতি পাওয়া যেত। এখন মাত্র ৫২ প্রজাতির প্রজাপতি পাওয়া যাচ্ছে। প্রজাপতির পরাগায়নেই উদ্ভিদ ও গাছের সৃষ্টি। তাই মানুষের মাঝে প্রজাপতির গুরুত্ব বুঝানো এবং জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে আমাদের এই মেলার আয়োজন।
অধ্যাপক মনোয়ার হোসেন আরও বলেন, প্রজাপতি আকারে ছোট কিন্তু নান্দনিক একটা প্রাণি। নতুন প্রজন্মকে যদি প্রজাপতির গুরুত্ব অনুধাবন করানো যায়, তাহলে তারা প্রকৃতির প্রতি যত্নশীল হবে।