জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার সাতপোয়া ইউনিয়নের আদ্রা আব্দুল গফুর জয়নাল আবেদীন আলিম মাদ্রাসায় নিয়োগে বাণিজ্যের অভিযোগে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। গতকাল শুক্রবার সকালে পুলিশ ও এলাকাবাসীর মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ চার রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। পরে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
মাদ্রাসা ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আদ্রা আব্দুল গফুর জয়নাল আবেদীন আলিম মাদ্রাসার শূন্য ও সৃষ্ট পদে ছয়জন শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে কর্তৃপক্ষ। ছয় পদের বিপরীতে উপাধ্যক্ষ পদে তিন, অফিস সহকারী কাম-হিসাব সহকারী পদে সাত, অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর পদে ১৭, নৈশপ্রহরী পদে চার, নিরাপত্তাকর্মী পদে পাঁচ ও আয়া পদে চারজন প্রার্থীর আবেদন চূড়ান্ত হয়।
এদিকে গতকাল সকালে নিয়োগ পরীক্ষার আগে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগে এলাকাবাসী মাদ্রাসার অফিসকক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেয়। সংবাদ শুনে সাখাওয়াত আলম মুকুল মাদ্রাসায় পুলিশ নিয়ে গেলে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ চার রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে।
অফিস সহকারী কাম-হিসাব সহকারী পদের পরীক্ষার্থী মাসুম পারভেজ জানান, উপজেলা সদরের আলিয়া মাদ্রাসায় পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল বলে প্রবেশপত্রে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু সকালে হঠাৎ শোনা যায়, রহস্যজনক কারণে এখানেই পরীক্ষা হবে। এ নিয়ে ডিজির প্রতিনিধি আসার আগে সংঘর্ষ হয়, কমিটির একজন সদস্যও লাঞ্ছিত হন। পরে ডিজির প্রতিনিধি এসে পরীক্ষা শুরু করেন। পরিবেশ না থাকায় তিনি পরীক্ষায় অংশ নেননি। একজন প্রার্থী নিয়েই পরীক্ষা হয় এবং এভাবেই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।
মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সাখাওয়াত আলম মুকুল বলেন, ‘কে বা কারা রাতের আঁধারে অফিসকক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেয়। পরে প্রিন্সিপালের মাধ্যমে আমি ঘটনা জানতে পারি। মাদ্রাসায় পুলিশ নিয়ে অফিসকক্ষের তালা খুলে পরীক্ষার কার্যক্রম শুরু করার আগে কয়েকজন ছেলে পরীক্ষা নিতে বাধা দেয়। তারা বলে, পরীক্ষা হলে আমাদের চাকরি দিতে হবে। এ নিয়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং পরীক্ষা নেওয়া হয়। পরীক্ষার ফলাফল অনুযায়ী চাকরি দেওয়া হবে। তবে নিয়োগ বাণিজ্যের বিষয়টি মিথ্যা ও বানোয়াট।’
সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মহব্বত কবীর জানান, মাদ্রাসার নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন।