সনজিত-সাদ্দামের অবসান, নতুন নেতৃত্বে কারা?

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ‘নিউক্লিয়াস’ খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বার্ষিক সম্মেলন শনিবার অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে অনুষ্ঠিত হবে। 

সম্মেলনের মাধ্যমে বিদায় নেবেন শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন। চার বছর পর নতুন নেতৃত্ব পাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ। 

দায়িত্ব পালনের এ সময়ে শিক্ষার্থীবান্ধব বিভিন্ন কর্মসূচি নিতে দেখা গেছে সনজিত-সাদ্দামকে। ভর্তি পরীক্ষায় বুথ স্থাপন, প্রশ্নফাঁস বিরোধী আন্দোলন, ধর্ষণ বিরোধী আন্দোলন, জয় বাংলা বাইক সার্ভিস, বিভিন্ন বিভাগে উন্নয়ন ফ্রি কমানো, শিক্ষার্থীদের মাঝে সাইকেল বিতরণ, হলে হলে ভেন্ডিং মেশিন স্থাপনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করতে দেখা গেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সনজিত-সাদ্দাম কমিটিকে। 

২০১৮ সালের ৩১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান সনজিত চন্দ্র দাস ও সাদ্দাম হোসেন। দায়িত্ব পাওয়ার প্রায় ৯ মাস পর ২০১৯ সালের মে মাসে কমিটি পূর্ণাঙ্গ করেন তারা। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল কমিটি দিতে সাড়ে তিন বছরের বেশি সময় নেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে হল কমিটি দেন তারা। 

নেতাকর্মীদের অভিযোগ, এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক জয়-লেখকের দায় রয়েছে। তারা নিজেদের অনুসারীদের হলের শীর্ষ নেতৃত্বে আনতে একাধিকবার কমিটি গঠনে বাধা প্রদান করেছিলেন। তাদের অসহযোগিতার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল কমিটি গঠনে বিলম্বে হয়েছিল। 

তবে হল কমিটিতে আঞ্চলিকতার প্রাধান্যের অভিযোগ রয়েছে। এটি ‘মাই ম্যান’ তৈরির প্রচেষ্টা কি না–এমন প্রশ্নের জবাবে

সনজিত চন্দ্র দাস বলেন, এবারের মতো সমন্বয় কোনোবার হয়নি। সংগঠনের প্রতি প্রতিশ্রুতিশীল, এমন কাউকে তো বাদ দেওয়া উচিত নয়। 

কেউ আঞ্চলিকতার বাইরে নয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, এমন দোষারোপ রাজনৈতিক ছলনা।

জানা গেছে, দায়িত্ব গ্রহণের বছর ২০১৮ থেকে ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় ভর্তিচ্ছু ও তাদের অভিভাবকদের সহযোগিতা করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পয়েন্টে বুথ স্থাপন করেন। ভর্তি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য জয় বাংলা বাইক সার্ভিস চালু করেন। ওই বছরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস হলে এর বিরুদ্ধে আন্দোলন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে পুনরায় পরীক্ষা নিতে বাধ্য করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ। 

এ ছাড়া বিভিন্ন বিভাগের উন্নয়ন ফি কমানোর ক্ষেত্রেও ভূমিকা রেখেছেন সনজিত-সাদ্দাম। গত সেপ্টেম্বর মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন করাসহ ৩০ দফা দাবিতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছিল ঢাবি ছাত্রলীগ। 

দীর্ঘ ২৯ বছর পর ২০১৯ সালের মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন। সেই নির্বাচনে ২৫ পদের মধ্যে ২৩টিতে জয় পেয়েছিল ছাত্রলীগের নেতৃত্বাধীন সম্মেলিত শিক্ষার্থী সংসদ। এ পদগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ভোট পেয়ে এজিএস নির্বাচিত হয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিরাজ ইসলাম সিফাত দেশ রূপান্তরকে বলেন, সনজিত-সাদ্দামের নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বার্থে কাজ করেছে। শিক্ষার্থীদের দাবি দাওয়া আদায় ও সার্বিক উন্নয়নে তাদের অবদান অনস্বীকার্য। আমরা প্রত্যাশা করি সম্মেলনের পর নতুন নেতৃত্ব এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে। 
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাওহীদ হোসেন অপূর্ব বলেন, ঢাবি ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটি প্রশংসার দাবিদার। বিভিন্ন সময় দেখেছি তারা শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করেছে। ক্যাম্পাসকে স্থিতিশীল রাখতে তারা ভূমিকা রেখেছে। 

দায়িত্ব পালনের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ঢাকা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছিলেন তা যথাযথভাবে পালনের চেষ্টা করেছি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে দেশরত্নের নেতৃত্বে রূপকল্প ৪১ এবং চতুর্থ শিল্প বিপ্লব বাস্তবায়নে কাজ করেছি। 

আগামী নেতৃত্ব বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ডাকসুর সাবেক এই এজিএস বলেন, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দক্ষ ও আধুনিক। তারা উন্নত চিন্তাভাবনায় বিশ্বাস করে এবং সাংস্কৃতিক ভাবে ঋদ্ধ। আমি বিশ্বাস করি যারা একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে রাজনীতি করতে পারবে ও জননেত্রী শেখ হাসিনার গণতান্ত্রিক ধারাকে অব্যাহত রাখতে কাজ করতে পারবে তারাই নেতৃত্বে আসবে বলে আশা করছি। 
 

ঢাবি ছাত্রলীগের শীর্ষ পদে আলোচনায় যারা

সাংগঠনিক দক্ষতা বিবেচনায় শীর্ষ নেতৃত্বে আলোচনায় রয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হোসেন শান্ত, হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হলের সভাপতি শহিদুল হক শিশির, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের সভাপতি কামাল উদ্দিন রানা ও সাধারণ সম্পাদক রুবেল হোসেন, ড. মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ হলের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জাহিদ।

কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্য থেকে আলোচনায় আছেন নাট্য ও বিতর্ক বিষয়ক সম্পাদক মুহাম্মদ ফয়সাল মাহমুদ, গণশিক্ষা বিষয়ক উপ-সম্পাদক সাইফুল্লাহ আব্বাসী অনন্ত, সহ-সম্পাদক এস.এম রাকিব সিরাজী, সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের সাবেক ভিপি এম.এম কামাল উদ্দিন।

এ ছাড়া নেতৃত্বের দৌড়ে আলোচনায় রয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ফরিদা পারভীন, সাহিত্য বিষয়ক উপ-সম্পাদক ফাল্গুনী দাস তন্বী, রোকেয়া হল ছাত্রলীগের সভাপতি আতিকা বিনতে হোসাইন।