জয়ের পরও কেউ হাসে, কেউ কাঁদে!

কি অদ্ভুত! কাতারের এডুকেশন সিটি স্টেডিয়ামে পর্তুগালের মতো শক্তিমান দলের বিপক্ষে জয়ের পরও প্রাণখুলে উচ্ছ্বাস করতে পারেনি দক্ষিণ কোরিয়া। দোল খেতে থাকে অনিশ্চয়তার দোলায়। যে জন্য খেলা শেষ হওয়ার পরও সবার দৃষ্টি নিবদ্ধ থাকে মোবাইল ফোনে।

একই সময় শুরু হলেও আল জানুব স্টেডিয়ামে উরুগুয়ে-ঘানার মধ্যে খেলা তখনও চলছিল। এই খেলার ওপর নির্ভর করতে থাকে 'এইচ' গ্রুপ থেকে 'রাউন্ড অব সিক্সটিন'-এ পর্তুগালের সঙ্গী হবে কে?

কোরিয়ার পাশাপাশি উরুগুয়ে আর ঘানারও যথেষ্ট সম্ভাবনা ছিল। তবে তিন পয়েন্ট নিয়ে এগিয়ে ছিল ঘানা। কোরিয়া ও উরুগুয়ে উভয়ের পয়েন্ট ছিল এক। সঙ্গত কারণেই ঘানার প্রত্যাশা ছিল বেশি।

অথচ হিসেবের অঙ্ক পাল্টে দিয়ে আশ্চর্যজনকভাবে পর্তুগালকে ২-১ গোলে হারিয়ে চার পয়েন্ট অর্জন করে কোরিয়া। কোরিয়ানরা খেলা শেষ করার সময় উরুগুয়ে ঘানার বিপক্ষে ২-০ গোলে এগিয়ে। ফলে কোরিয়া ও উরুগুয়ের পয়েন্ট সমান হলেও গোল এভারেজে সুবিধাজনক অবস্থায় থাকে কোরিয়া।

এ খবর জানতে পেরে গোলসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে 'লা সেলেস্তে'রা। আরও গোল করতে পারলেই কেবল কোরিয়াকে টপকে যাওয়া যাবে, এমন সমীকরণকে সামনে রেখে তারা আক্রমণের ঝড় তোলে।

পক্ষান্তরে দু'গোলে পিছিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত হাল ছাড়েনি অদম্য ঘানা। স্বপ্নের রং ক্রমশ ফিকে হয়ে যেতে থাকলেও লড়াকু মেজাজে খেলতে থাকে৷ যে কারণে সর্বাত্মক চেষ্টা করেও গোল সংখ্যা বাড়াতে পারেনি উরুগুয়ে।

বিস্ময়কর হলেও সত্য, জয় নিয়ে মাঠ ছাড়লেও চোখে কষ্টের অশ্রু আর হৃদয়ে রক্তক্ষরণ নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় লুইস সুয়ারেজ, এদিনসন কাভানিদের। তাঁদের কান্নার সঙ্গী হয় 'ব্লাক স্টার' খ্যাত ঘানা। আর মোবাইলে উরুগুয়ে-ঘানার ফল জেনে জয় অর্জনের অনেকটা সময় পর বিজয়ের পাশাপাশি রাউন্ড অব সিক্সটিন'-এ ওঠার আনন্দে দারুণভাবে মেতে উঠে 'ওরিয়র্স' কোরিয়ানরা।

অবশ্য খুশিতে ডগমগ করতে থাকা কোরিয়ানদের চোখেও ঝরতে থাকে আনন্দাশ্রু৷ ফুটবলেই বোধ করি এমনটা সম্ভব। একই সময়ে জয় পেয়েও একদল স্বপ্ন ভঙ্গের বেদনায় কাঁদতে থাকে আর অপর দল স্বপ্ন পূরণের আনন্দে হাসতে থাকে।

ফুটবল খেলা কত বিচিত্রভাবে যে কাউকে কাঁদায় আবার কাউকে হাসায়, তা বিশ্বকাপ ফুটবল এলে বুঝতে পারা যায়।