পুলিশ কেন সমাবেশের স্থান নির্ধারণ করবে, প্রশ্ন মন্টুর

গণফোরাম সভাপতি মোস্তফা মোহসীন মন্টু বলেছেন, পুলিশের অনুমতি নিয়ে সভা-সমাবেশ গণতন্ত্র পরিপন্থি। এই কর্তৃত্ববাদী নিয়ম বাতিল করতে হবে। সভা-সমাবেশ করা রাজনৈতিক দলের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার। কোথায় সমাবেশ করবে নিরাপত্তার স্বার্থে সেটা পুলিশকে জানানো হবে। কিন্তু, পুলিশ কেন নির্ধারণ করবে কোথায় সমাবেশ হবে?

শনিবার (৩ ডিসেম্বর) সকালে নিজ কার্যালয়ে গণফোরামের নির্বাহী পরিষদের সভায় এ প্রশ্ন রাখেন তিনি।

সভায় মন্টু বলেন, বিরোধী দল যখন সভা-সমাবেশ ঘোষণা করে তখনই সরকার পরিকল্পিত অবরোধ দিয়ে পরিবহন বন্ধ করে সমাবেশে বাধা দেয়। আইনের অপপ্রয়োগ করে গায়েবি মামলা দিয়ে পুলিশ বাড়ি-বড়ি তল্লাশি করছে, রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিনা ওয়ারেন্টে গণগ্রেপ্তার করছে। এমন বাংলাদেশের জন্য মুক্তিযুদ্ধ হয়নি। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম কারণ ছিল বাংলাদেশে সত্যিকারের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা।

নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক ড. আবু সাইয়িদ বলেন, সরকারের বিভিন্ন অপকর্মের কারণে দ্রব্যমূল্যের লাগমহীন ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংক লুট, অর্থ পাচার, ঋণ খেলাপি, মাদক, সন্ত্রাস এসব কারণে জনগণ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। বিচ্ছিন্ন সরকার জনতার সভা-সমাবেশকে ভয় পায় তাই বানচাল করতে উঠে পড়ে লাগে। সম্প্রতি বিভিন্ন জায়গায় বিরোধী দল থেকে সভা-সমাবেশ ও জনসভা করা হচ্ছে সেগুলোকে রাষ্ট্র যন্ত্র ব্যবহার করে কর্তৃত্ববাদী সরকার বাধা দেবে সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু জনগণ সব বাধা অতিক্রম করবে। সরকার জনগণের ওপর নিপীড়ন-নির্যাতন আরও বাড়িয়ে দিলে বিশৃঙ্খল অবস্থা সৃষ্টি হবে যা রাষ্ট্রের জন্য অশনি সংকেত।

সাধারণ সম্পাদক সিনিয়র অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, সরকার আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করে নিজেদের সুবিধামতো জননিপীড়নের কালা কানুন তৈরি করছে। যাতে তারা অবৈধ ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করতে পারে। সরকার তেল-গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির ব্যপারে যে অধ্যাদেশ জারি করেছে এটা সম্পূর্ণ গণবিরোধী সিদ্ধান্ত। অবিলম্বে জবাবদিহিতাবিহীন ইচ্ছেমতো গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর অধ্যাদেশ বাতিল করতে হবে।

তিনি বলেন, এই মুহূর্তে আমাদের লড়াই এই জনগণের অর্থ লুটপাট করে দেশের বাহিরে পাচার করা অপশক্তির বিরুদ্ধে যারা কিনা এই অবৈধ অর্থ ব্যবহার করে অবৈধ সরকারকে ক্ষমতায় রাখতে। গণফোরাম সৃষ্টিই হয়েছিলো দুর্বৃত্তায়িত শক্তিকে পরাজিত করতে সেই লক্ষ্যে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন গণফোরাম নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট এ কে এম জগলুল হায়দার আফ্রিক, অ্যাডভোকেট মহিউদ্দিন আব্দুল কাদের ও সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব খান ফারুক প্রমুখ।