আল রাইয়ানে খেলার সময় তখন গড়িয়েছিল ৩৫ মিনিটে। নিকোলাস ওটামেন্দি দিলেন এক পাস। সেই পাস থেকে অস্ট্রেলিয়ার জালে বল জড়ালেন লিওনেল মেসি। তাতেই ছাড়িয়ে যান তিনি স্বদেশী কিংবদন্তী ফুটবলার দিয়াগো ম্যারাডোনাকে।
কর্নার ফ্ল্যাগের কাছে আর্জেন্টাইন ফুটবলার অ্যাকুনাকে ফাউল করায় ফ্রি-কিক পায় আর্জেন্টিনা। সেই কিক থেকে সরাসরি গোল না হলেও ফিরতি বল পান মেসি। ডি পলের সঙ্গে বল দেওয়া নেওয়া করে বক্সে ঢুকে বাঁ পায়ের মাটি ঘেঁষা শটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন মেসি।
পঞ্চম বিশ্বকাপ খেলতে এসে নক-আউটের ম্যাচে প্রথম গোলের দেখা পেলেন তিনি। পাশাপাশি ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ফুটবল মিলিয়ে এটি ছিল মেসির হাজারতম ম্যাচ। সেই ম্যাচকে স্মরণীয় করে রাখার উপলক্ষ্যও হয়ে ওঠে এই গোল।
এই গোলেই আবার তিনি ছাড়িয়ে যান ম্যারাডোনাকে। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের নায়ক ম্যারাডোনা বিশ্বকাপে মোট ৮টি গোল করেছিলেন। পাঁচ বিশ্বকাপে খেলা মেসির মোট গোলসংখ্যা এখন নয়টি।
মেক্সিকোর বিপক্ষে গোল করে ম্যারাডোনার সমান গোলসংখ্যা স্পর্শ করেছিলেন মেসি। সেই ম্যাচে আবার অ্যাসিস্টের রেকর্ডও গড়িছিলেন তিনি। বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে পাঁচটি ভিন্ন আসরে অ্যাসিস্ট করার কীর্তি গড়েছেন মেসি। ২০০৬, ২০১০, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের বিশ্বকাপের পর ২০২২ সালের আসরেও অ্যাসিস্ট করেন সাতবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। পোল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তিনি বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ (২২টি) খেলার কীর্তি গড়েন। ম্যারাডোনা খেলেছেন ২১টি ম্যাচ।
শনিবার রাতের ম্যাচটা যেন ছিল মেসিময়। তিনি যে কিংবদন্তীকে ছাড়িয়ে গেছেন। কারণ তিনিও যে আর্জেন্টিনার জীবন্ত কিংবদন্তী।