‘প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে’ স্লোগানকে কেন্দ্র করে ইশরাকের গাড়িতে হামলা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রলীগের সঙ্গে ছাত্রদলের সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের প্রায় ১২ নেতাকর্মীসহ চার সাংবাদিক আহত হয়েছেন।

রবিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ সংঘর্ষ হয়।

জানা যায়, বিএনপির নেতা ইশরাক হোসেন আগামী ১০ ডিসেম্বরের বিএনপির সমাবেশের প্রচারণা চালানোর সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে আসলে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।

এসময় শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন বাধা দিলে তাদের ওপর ছাত্রদল নেতাকর্মীরা চড়াও হন এবং মারধর করেন। এসময় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী ছাত্রদলের ওপর পাল্টা আক্রমণ করে এবং ইশরাক হোসেনের গাড়ি ভাঙচুর করে।

এতে ছাত্রলীগের সাতজন এবং ছাত্রদলের পাঁচজন আহত হন। ঘটনাস্থল থেকে ছাত্রদলের দুজনকে আটক করে পুলিশ।
এদিকে হামলার সময় মারামারির ছবি ও ভিডিও ধারণ করায় জবির চার সাংবাদিকের ওপর শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী অতর্কিত হামলা ও মারধর করেন।

হামলার বিষয়ে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন বলেন, আগামী ১০ ডিসেম্বরে বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশ সফল করার জন্য আমরা পুরান ঢাকায় প্রচার চালাচ্ছিলাম। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে আসামাত্র জবি ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা আমাদের হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করে। হামলায় আমাদের পাঁচ নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অথচ পুলিশ ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের আটক না করে আমাদের তিন নেতাকর্মীকে আটক করে কোতোয়ালি থানায় নিয়ে যায়। আমাদের গাড়িও ভাংচুর করা হয়েছে। আমি নিজেও আহত। কেউ এই ধরনের অপকর্ম করে আমাদের সমাবেশকে বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আকতার হোসাইন বলেন, বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসের সামনে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিলে আমাদের কয়েকজন বাধা দেয়। পরে আমাদের বেশ কয়েকজন ছোট ভাই পাল্টা আক্রমণ করে তাদের প্রতিহত করে। এ ঘটনায় আমাদের সাতজন নেতাকর্মী আহত হয়েছে।

এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ হাসান মাতব্বর বলেন, বিএনপির ইশরাক ও তার নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিলে জগন্নাথের কয়েকজন বাধা দিলে তাদের ওপর আক্রমণ করা হয়, এসময় জগন্নাথের ভেতর থেকে ছাত্ররা পাল্টা আক্রমণ করে। এ ঘটনায় বিএনপির দুজনকে আটক করা হয়েছে।