ব্যর্থতার বৃত্তে বন্দী শান্ত পাশে পাচ্ছেন ডমিঙ্গোকে

রঙিন পোশাকের ক্রিকেটে নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যর্থতার গল্প নতুন কিছু নয়। ৫০ ওভারের সংস্করণে ১৪ ম্যাচ খেলা হয়ে গেছে এই বাঁহাতি ব্যাটারের। সাড়ে ১৩ গড়ে রান করা এই ক্রিকেটারের এখনও নেই কোনো অর্ধশতকের দেখা। শতকের প্রসঙ্গে তো বলা যায়, দিল্লি বহুদূরে। তবু তার ভাগ্যাকাশে বারবার সূর্যের উদয় হয়। এবার যেমন তামিম ইকবালের চোটে তিনি ফের দলে। কিন্তু সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে পারেননি। ভারতের বিপক্ষে রানের খাতা খোলার আগেই ফিরতে হয়েছে তাকে। তাতেও ভরসা হারায়নি টাইগার টিম ম্যানেজমেন্ট।

ব্যর্থতার বৃত্তে বন্দী থাকা শান্ত ভারতের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে নেমেছিলেন উদ্বোধনীতে। কিন্তু প্রথম বলেই স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান। তাই দ্বিতীয় ম্যাচের আগে আলোচনায় একাদশে তার অবস্থান নিয়ে। টাইগারদের ওয়ানডে ও টেস্ট দলের কোচ রাসেল ডমিঙ্গো থাকছেন তার পাশেই।

জয়ের পর ‍ফুরফুরে মেজাজে থাকা টাইগাররা সোমবার কোনো অনুশীলন করেনি। দ্বিতীয় লড়াইয়ে নামার আগে আজ সংবাদ সম্মেলনে দলের প্রতিনিধি হয়ে এসেছিলেন কোচ রাসেল ডমিঙ্গো। এসময় তিনি বলেন, ‘আমি বাঁহাতি-ডানহাতি ব্যাটারদের উদ্বোধনী জুটি পছন্দ করি। শান্তকে দেখে মনে হচ্ছে, সে সাদা বলের ক্রিকেটের ছন্দটা ধরতে পারছে। বিশ্বকাপে দুটি অর্ধশতক করেছে।’

প্রথম ম্যাচে শূন্য রানে ফেরা এই ব্যাটার রবিবারের আগে শেষ ওয়ানডেতেও আউট হয়েছিলেন রানের খাতা খোলার আগে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সেই ম্যাচেও তিনি প্রথম বলেই আউট হয়েছিলেন। সম্ভাবনাময় ব্যাটার হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পা রাখা শান্তর সাদা বলের ক্রিকেট এমন পরিসংখ্যানের পরও মাথার ওপর থেকে ছায়া সরাতে নারাজ রাসেল ডমিঙ্গো। এ প্রসঙ্গে তিনি টেনে এনেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি জ্যাক ক্যালিসের উদাহরণ।

কোচের যুক্তি, ‘আমি অনেক বড় ক্রিকেটারদের দেখেছি, যাদের শুরুটা একদম প্রত্যাশানুযায়ী নয়। প্রথম ২০-২৫ ম্যাচ, ২০ টেস্ট ম্যাচের রেকর্ডও তাদের গোটা ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। জ্যাক ক্যালিসের কথাই বলি। তার প্রথম ১২ টেস্টে গড় মনে হয় ১২ ছিল। দেখুন, আমরা জানি শান্তর আরও ধারাবাহিক হওয়া উচিত । ওয়েস্ট ইন্ডিজে তাকে কঠিন উইকেটে খেলতে হয়েছে। সেখানে কিছু ভালো ইনিংস খেলেছে। আর কিছু ক্রিকেটারের সেরাটা দেখার জন্য ধৈর্যশীল হতে হবে। কঠিন কন্ডিশনে ১২টা ওয়ানডে ম্যাচ খুব বেশি নয়। তাই আমাদের ধৈর্য ধরতে হবে। তাদের ফর্ম খুঁজে পাওয়ার সুযোগ দিতে হবে।’