সুইসদের ভরসা শাকিরি

বিশ্বের বেশিরভাগ ফুটবলপ্রেমী যখন ব্রাজিল-ক্যামেরুন ম্যাচে চোখ রাখছেন, তখন জমজমাট লড়াই হয়েছে সুইজারল্যান্ড-সার্বিয়া ম্যাচে। স্টেডিয়াম ৯৭৪ এ ম্যাচের ২০তম মিনিটেই গোল করে সুইসদের এগিয়ে দিয়েছিলেন জারদান শাকিরি, যে ম্যাচটা ৩-২ ব্যবধানে জিতে শেষ ষোলোয় পা রেখেছে সুইজারল্যান্ড।

গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে শাকিরি আর সুইজারল্যান্ড দল হয়ে উঠেছে সমার্থক। ২০১০, ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২২ বিশ্বকাপে খেলেছেন শাকিরি। ১৯৬৬ সালের পর ১৯৯৪ বিশ্বকাপে খেলেছিল, এরপর আবার দুই আসরে দর্শক হয়ে থাকার পর ২০০৬ বিশ্বকাপ থেকে নিয়মিত অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করে আসছে সুইজারল্যান্ড। ২০১০ সালে সুইজারল্যান্ডের ফিফা র‌্যাংকিং ছিল ২১, সেখান থেকে এখন যে ১৫-তে উন্নীত হয়েছে তার পেছনে শাকিরিদের প্রজন্মের অবদান কম নয়।

যুদ্ধের কারণে কসোভো-আলবেনিয়ান অনেক পরিবারই হয়েছে বাস্তুচ্যুত, শাকিরি তাদেরই একজন।১৯৯২ সালে অভিবাসী হয়ে সুইজারল্যান্ডে আসেন শাকিরির বাবা-মা। তারা সুইস ভাষা জানতেন না, তাই শাকিরির বাবা রেস্তোরাঁয় প্লেট ধুয়েছেন আর রাস্তার নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। শাকিরির মা শহরের অফিস ভবনগুলোতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ করতেন, যে কাজে মাকে সহায়তা করতেন শাকিরি আর তার ভাই। এখন দামি গাড়ি, বিলাসবহুল বাড়ি... কী নেই তার? সবই এসেছে ফুটবলের জোরেই। সুইজারল্যান্ডের তৃতীয় সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ফুটবলার আর ষষ্ঠ সর্বোচ্চ গোলদাতা। সুইজারল্যান্ড, জার্মানি ও ইংল্যান্ডে শীর্ষ লিগ জয়ের কৃতিত্ব আছে শাকিরির, সুইজারল্যান্ডের বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার জিতেছেন দুইবার।

জাতীয় দলে ১১১ ম্যাচে ২৭ গোল এই উইঙ্গারের। বিশ্বকাপে সবশেষ ম্যাচে করেছেন নিজের দশম গোল। শাকিরির ড্রিবলিং দক্ষতার সঙ্গে শারীরিক শক্তিও কম নয়, ডিফেন্ডারদের গতিতে তো বটেই জোরেও পেছনে ফেলতে পারেন সুইসদের ‘নাম্বার টেন’।

বিশ্বকাপে নিয়মিত উপস্থিতি আছে গত কয়েকটা আসরে, তবে রাউন্ড অব সিক্সটিন এর বেশি যাওয়া হয়নি সুইজারল্যান্ডের। পর্তুগালকে হারিয়ে শাকিরির সুইজারল্যান্ড কি পারবে প্রথমবারের মতো শেষ আটে পা রাখতে? সেই স্বপ্নটা সম্ভব করতে হলে বল পায়ে প্রচেষ্টাটা নিতে হবে শাকিরিকেই।