কুমিল্লায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে যুবলীগ নেতা নিহত

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কুমিল্লার তিতাসে দুই পক্ষের সংঘর্ষে জহিরুল ইসলাম নামের এক যুবলীগ নেতা নিহত হয়েছেন। এ সময় পুলিশসহ আহত হয়েছেন অন্তত ৯ জন।

মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। 

নিহত জহির ভিটিকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হোসেন মোল্লার ছেলে। তিনি ভিটিকান্দি ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি বলে জানা গেছে। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাছের প্রজেক্ট দখল নেওয়াকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার বিকেলে ভিটিকান্দি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হোসেন মোল্লা গ্রুপ এবং ৬নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার সাইফুল আলম গ্রুপের মধ্যে মানিককান্দি এলাকায় সংঘর্ষ হয়। এসময় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় জহিরুল ইসলামকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যুবরণ করেন।

কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশফাকুজ্জামান জানান, দুই পক্ষের সংর্ষের ঘটনায় একজন নিহত হওয়ার খবর পেয়েছি। এসময় আরও ৯ জন আহত হয়েছে। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে পুলিশের অন্তত তিন সদস্য আহত হয়েছে বলেও জানান তিনি। 

জানা গেছে, আবুল হোসেন মোল্লা ও সাইফুল ইসলামের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য নিয়ে দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। এরই সূত্র ধরে মাছের প্রজেক্ট দখলসহ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের লোকজন মঙ্গলবার বিকেলে সংঘর্ষে জড়ায়। এসময় আবুল হোসেনের সামনেই তার ছেলে জহিরুল ইসলামকে প্রতিপক্ষের লোকজন কুপিয়ে আহত করে। সাইফুল ইসলামের বাড়িতেও অগ্নিসংযোগ করে তার প্রতিপক্ষরা। 

স্থানীয়রা জানান, জহিরুল ইসলামের ওপর হামলার সময় সেখানে কয়েকজন পুলিশ সদস্যও উপস্থিত ছিলেন। তারা কেউ এগিয়ে আসেনি। পুলিশের সামনেই জহিরুলকে প্রতিপক্ষের লোকজন এলোপাথারি কুপিয়ে চলে যায়। 

পুলিশ জানায়, ঘটনা নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সন্ধ্যার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। রাত পর্যন্ত হতাহতের ঘটনায় কোন মামলা এজাহারভুক্ত করেনি পুলিশ।