ইরানের সাবেক এক প্রেসিডেন্টের নজিরবিহীন আহ্বান

নজিরবিহীনভাবে ইরানের বিক্ষোভকারীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন দেশটির ইসলামি সরকারের সাবেক একজন প্রেসিডেন্ট। আন্দোলনে সমর্থনের পাশাপাশি বিক্ষোভকারীদের দাবিও মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ইরানের ইসলামি শাসনামলে এমন ঘটনা এবারই প্রথম ঘটল। সাবেক ওই প্রেসিডেন্টের নাম মোহাম্মদ খাতামি।

৭৯ বছর বয়সী সাবেক এই ইরানি প্রেসিডেন্ট দেশটির সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের প্রশংসা করে প্রকাশ্যেই মন্তব্য করেছেন। একইসঙ্গে ‘খুব দেরি হওয়ার আগে’ বিক্ষোভকারীদের দাবি মেনে নেওয়ার জন্যও কর্তৃপক্ষের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন।

মোহাম্মদ খাতামি বলেন, ‘নারী, জীবন, স্বাধীনতা’ নিয়ে বিক্ষোভকারীদের ‘সুন্দর স্লোগান’ থেকে এটাই প্রমাণিত হয় যে, ইরানি সমাজ একটি উন্নত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তারেরও সমালোচনা করেন।

বুধবার ছাত্র দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে এসব মন্তব্য করেন তিনি।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ইরানে চলমান নারীর পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলন ইরানের ৩১টি প্রদেশের ১৫০টিরও বেশি শহর এবং ১৪০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এই আন্দোলনকে ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকে ইরানের ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কট্টরপন্থি প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসিসহ ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব দেশে চলমান এই বিক্ষোভকে বিদেশি শত্রুদের প্ররোচিত ‘দাঙ্গা’ হিসাবে আখ্যায়িত করে এবং বিক্ষোভকারীদের ‘কঠোরভাবে মোকাবিলা করতে’ নিরাপত্তা বাহিনীকে নির্দেশ দেয়। এতে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সির (এইচআরএএনএ) তথ্য অনুসারে, বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৪৭৩ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন এবং ৫৮৬ জন শিক্ষার্থীসহ ১৮ হাজার ২১৫ জনকে আটক করা হয়েছে। অবশ্য বিক্ষোভ-সহিংসতায় ৬১ জন নিরাপত্তা কর্মীও নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

মোহাম্মদ খাতামি একজন সংস্কারপন্থি হিসেবে পরিচিত এবং ১৯৯৭ সাল থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে দুই মেয়াদে ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। চলমান বিক্ষোভ নিয়ে বিবৃতিতে তিনি একে ‘সম্ভবত নজিরবিহীন’ বলে মন্তব্য করেছেন এবং এই প্রতিবাদ-বিক্ষোভে ছাত্র ও অধ্যাপকদের জড়িত থাকার প্রশংসা করেছেন। বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় তারা যে শাস্তি ও বিধিনিষেধের মুখোমুখি হয়েছে তারও সমালোচনা করেছেন সাবেক এই প্রেসিডেন্ট।

খাতামি বলেন, ‘স্বাধীনতা ও নিরাপত্তাকে একে অপরের বিপরীতে দাঁড় করিয়ে দেওয়া উচিত নয়। এছাড়া নিরাপত্তা বজায় রাখার অজুহাতে স্বাধীনতা পদদলিত হচ্ছে, বা সেই নিরাপত্তা ... স্বাধীনতার নামে উপেক্ষা করা হচ্ছে।’

প্রেসিডেন্ট রাইসির সরকারকে সরাসরি সম্বোধন করে তিনি বলেন: ‘বিক্ষোভকারীদের এই উপস্থিতিকে প্রশংসা করতে আমি কর্মকর্তাদের পরামর্শ দিচ্ছি এবং এটিকে অন্যায়ভাবে মোকাবিলা না করে, তাদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। একইসঙ্গে খুব বেশি দেরি হওয়ার আগে তাদের সাহায্যে শাসনের ভুল দিকগুলোকে চিহ্নিত করতে এবং সুশাসনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি।’

মোহাম্মদ খাতামির এই আহবানের কয়েকদিন আগেই ইতিমধ্যেই টানা দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে চলমান বিক্ষোভের মুখে বহুল আলোচিত-সমালোচিত ‘নীতি পুলিশ’ বিলুপ্ত করার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন...

হিজাব বিরোধী আন্দোলনে প্রথম বড় জয় ইরানের নারীদের, বিলুপ্ত নীতিপুলিশ