গত বছর তালেবানরা ফের ক্ষমতায় আসার পর থেকেই আফগান মেয়েদের জন্য হাই স্কুলের দরজা বন্ধ। দীর্ঘদিন ধরে পড়াশোনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত আফগান কিশোরীরা। এমন পরিস্থিতিতেই মেয়েদের হাইস্কুলের ফাইনাল পরীক্ষা নিয়েছে তালেবান প্রশাসন। তাও আবার মাত্র একদিন আগে ঘোষণা দিয়ে পরের দিন মাত্র চার ঘন্টায় সব বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে!
এমনকি গোটা আফগানিস্তানজুড়ে মাত্র একদিনেই পরীক্ষা সেরে ফেলা হয়েছে। গতকাল ৬ ডিসেম্বর ঘোষণা দিয়ে আজ ৭ ডিসেম্বর আফগানিস্তানের ৩১টি প্রদেশের সমস্ত হাইস্কুলে মেয়েদের পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে! সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এই পরীক্ষা নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
তালেবানের এমন কাণ্ডে স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে নানা মহলে। মাত্র একদিন আগে পরীক্ষার বিষয়টি ঘোষণা করেছিলেন আফগানিস্তানের শিক্ষামন্ত্রী। জানা গিয়েছে, দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রীদের মাত্র চার ঘণ্টার মধ্যে ১৪টি বিষয়ের পরীক্ষা দিতে হয়েছে। যেখানে প্রতিটি বিষয়ে ১০টি করে প্রশ্ন ছিল!
গতকাল পরীক্ষার ঘোষণার পর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আফগান কিশোরা জানিয়েছে, ‘দীর্ঘদিন ধরে একটা ভয়ের পরিবেশে থাকছি আমরা। স্কুল খোলার কথা শুনলেও বাস্তবে সেটা হয়নি। মানসিক চাপে বইয়ের একটা পাতাও পড়তে পারিনি। এমন পরিস্থিতিতে মাত্র একদিনের নোটিসে পরীক্ষা দেওয়া গোটা ব্যাপারটা খুবই অবাস্তব। দেড় বছর ধরে স্কুল যাইনি, পড়াশোনা করতে পারিনি, এই অবস্থায় পরীক্ষা দেওয়া একেবারে অসম্ভব।’
একই মত আফগানিস্তানের শিক্ষিকাদেরও। স্কুল বন্ধ থাকায় ছাত্রীদের কাছে বইখাতা নেই। একা একা বাড়িতে বসে পড়াশোনা করাও সম্ভব হয়নি ছাত্রীদের পক্ষে। এমতাবস্থায় পরীক্ষা দিলেও পাশ করা প্রায় অসম্ভব। তাই এরকম পরীক্ষার কোনও মানেই হয় না। প্রসঙ্গত, এই পরীক্ষায় পাশ করতে না পারলে আগামী বছর মার্চ মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে ছাত্রীদের। এই পরীক্ষায় পাশ করে গেলে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার জন্য আবেদন করতে পারবে আফগান মেয়েরা। তবে উচ্চশিক্ষার জন্য তারা আবেদন করতে পারবে কিনা, তালেবানের শাসনে সেটাই কোটি টাকার প্রশ্ন।
২০২১ সালের আগস্টে কাবুল দখল করার পর সেপ্টেম্বরেই মেয়েদের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো খোলার সিদ্ধান্ত নেয় তালেবান। তবে ৬ষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্তই। তার থেকে উঁচু ক্লাসে (৭ম থেকে দ্বাদশ) মেয়েদের আর স্কুলে যাওয়ার উপায় নেই। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের দরজা অবশ্য খোলা রয়েছে। একাধিকবার মেয়েদের জন্য হাইস্কুলের দরজা খোলার কথা হলেও, নানা অজুহাত দেখিয়ে সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে দিয়েছে তালেবান।