নয়াপল্টনে বুধবার বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় এলাকায় ‘আত্মরক্ষার্থে’ ৪১০ রাউন্ড শটগানের সিসা, ১ হাজার ৩ রাউন্ড রাবার বুলেট, ১৭৩টি গ্যাসগান ও ৬টি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে পুলিশ।
বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলার এজাহারে পল্টন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান এসব তথ্য উল্লেখ করেছেন।
এজাহারে বলা হয়, পুলিশ ওই এলাকা থেকে বিএনপি নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে এসব বুলেট ব্যবহার করে।
এতে বলা হয়, বুধবার পুলিশ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের আশপাশের এলাকা থেকে ৪৫০ এবং কার্যালয়ের সামনে থেকে ৩০৫ নেতাকর্মীকে আটক করে।
এজাহারে বলা হয়, বিএনপি কার্যালয়ের ভেতর থেকে নেতাকর্মীরা পুলিশের দিকে ইট-পাটকেলসহ ককটেল নিক্ষেপ করে। পরে সোয়াট, ডিবি, বোম্ব ডিসপোজাল টিম সম্মিলিতভাবে বিএনপি কার্যালয়ের ভেতর প্রবেশ করে ৪১ নেতাকর্মীকে আটক করে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের দাবি, বুধবার নয়াপল্টন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষে ৪৭ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে।
রাজারবাগের সেন্ট্রাল পুলিশ হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া আহত পুলিশ সদস্যদের তালিকা অনুযায়ী এ সংখ্যার কথা জানিয়েছে ডিএমপি।
নয়াপল্টন এলাকায় বুধবার দুপুরে শুরু হওয়া সংঘর্ষে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত একজন নিহত ও চার সাংবাদিকসহ শতাধিক আহত হয়েছেন। ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে বিএনপির ২ হাজার ৩০০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ।
পল্টন, মতিঝিল, শাহজাহানপুর থানায় করা ৩ মামলায় ৫৫৩ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা ১ হাজার ৭৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
তাদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী, খায়রুল কবির খোকন, শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, আমানুল্লাহ আমান ও শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।
এছাড়া নাইটিঙ্গেল ও বিজয়নগর এলাকায় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১০০ রাউন্ড রাবার বুলেট ও ৩২ রাউন্ড টিয়ার গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করেছে বলে রমনা থানায় করা দুটি মামলায় উল্লেখ করা হয়।
এসব মামলায় পুলিশ বৃহস্পতিবার ৪৫০ জনকে ঢাকার একটি আদালতে হাজির করে ১৫ জনের ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে।