দুর্নীতি কমাতে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা প্রয়োজন : দুদক চেয়ারম্যান

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ড. মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ বলেছেন, দুর্নীতি একটি ঘাতক ব্যাধি, এই ব্যাধি নির্মূলে একা কাজ করলে হবে না, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দুর্নীতি প্রতিরোধে কাজ করতে হবে। রাতারাতি দেশের দুর্নীতি কমে যাবে না, এর জন্য ঐকবদ্ধ প্রচেষ্টা প্রয়োজন, দুদক সেই চেষ্টাই করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, সব ধরনের দুর্নীতিবাজদের বয়কট করতে হবে, দুর্নীবাজদের বয়কট করলেই দেশের দুর্নীতি অনেকাংশে কমে যাবে।

শুক্রবার (৯ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদক প্রধান কার্যালয়ে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত মানববন্ধন তিনি এ মন্তব্য করেন। মানববন্ধনে দুদকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি সরকারি বেসরকারি পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কর্মচারী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

এর আগে সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসটি উদ্বোধন করেন দুদক চেয়ারম্যান। এ সময় তিনি আরও বলেন, 'দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ বিশ্ব' এই স্লোগানকে সামনে আনকাকভুক্ত দেশ হিসেবে বাংলাদেশের রেখে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ২০তম আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবসটি উদযাপন করছে দুদকসহ দেশের সরকারি, বেসরকারি ও আধাসরকারি প্রতিষ্ঠান।

অতীতে দুর্নীতিতে বাংলাদেশ পাঁচবার চ্যাম্পিান হয়েছে জানিয়ে মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশ অতীতে দুর্নীতর যে রেকর্ড সেটা থেক ক্রমশই উন্নতি করছে, দুর্নীতি থেকে সরে আসছে। আমরা নিজে দুর্নীতি করব না, দুর্নীতি সহ্য করব না, তাহলেই দেশ থেকে দুর্নীতি নির্মূল করা সম্ভব হবে।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা অডিটোরিয়ামে এক আলোচনাসভার আয়োজন করেছে দুদক, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। আর বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস উদযাপন উপলক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা করছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। রাজধানী ঢাকা ছাড়াও দেশের ৮টি বিভাগ, ৬৪টি জেলা ও দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ৪৯৫টি উপজেলায় বড় পরিসরে উদযাপন করছে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস।

জাতিসংঘ ২০০৩ সালে ৯ ডিসেম্বরকে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস ঘোষণা করে। ইউনাইটেড ন্যাশনস কনভেনশন এগেইনেস্ট করাপশনের (আনকাক) মাধ্যমে দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। বাংলাদেশ ২০০৭ সাল থেকে সংস্থাটির সদস্য। তবে আন্তর্জাতিকভাবে দিবসটি উদযাপন শুরু করে ২০১৭ সাল থেকে।