দুদক মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডে প্রথম দেশ রূপান্তরের রুবেল

দুদক (দুর্নীতি দমন কমিশন) মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড-২০১৯ এর প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়া ক্যাটাগরিতে প্রথম হয়েছেন দেশ রূপান্তরের জেষ্ঠ প্রতিবেদক তোফাজ্জল হোসেন রুবেল। ‘কেনা-তোলায় এত ঝাঁজ’ শীর্ষক প্রতিবেদনের জন্য তাকে এই অ্যাওয়ার্ড দেয়া হয়। 

দেশ রূপান্তরে ২০১৯ সালে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের জন্য কেনাকাটা আর আসবাবপত্র ওঠানোর নামে হরিলুটের চিত্র উঠে আসে।

শুক্রবার (৯ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস উপলক্ষে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই পুরস্কার তুলে দেয়া হয়।

দুদক মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড-২০১৯ পেয়েছেন বিভিন্ন গণমাধ্যমের আরও ৫ সাংবাদিক। প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়া ক্যাটাগরিতে বিজয়ী অন্যরা হলেন, ডেইলি স্টারের স্টাফ রিপোর্টার জামিল খান এবং প্রথম আলোর যশোর প্রতিনিধি মনিরুল ইসলাম। এছাড়া ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া ক্যাটাগরিতে প্রথম হয়েছেন বৈশাখী টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার কাজী ফরিদ আহমেদ। অন্যরা হলেন, একাত্তর টেলিভিশনের বরগুনা প্রতিনিধি ইমরান হোসেন এবং নিউজ টোয়েন্টিফোরের সিনিয়র রিপোর্টার আশিকুর রহমান শ্রাবণ।

দুদকের এই আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। তিনি বলেন, দুর্নীতি বাংলাদেশের নয়, এটা বৈশ্বিক সমস্যা। দুর্নীতি সমাজে বৈষম্য তৈরি করে, বিকাশ ও উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করে। আমি মনে করি মানুষের মধ্যে দুর্নীতি বিষয়ক সচেতনতা তৈরি ও দুর্নীতিগ্রস্তদের শাস্তি নিশ্চিত করার মাধ্যমে দুর্নীতি কমিয়ে আনা সম্ভব। তাই সামাজিক আন্দোলনের বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, একটা সময় ছিল ঘুষখোর, সুদখোর ও দুর্নীতিবাজদের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা ছিল না বললেই চলে। কিন্তু কালের বিবর্তনে সেই মূল্যবোধ হারিয়ে যেতে বসেছে। এখন শহর, নগর ও গ্রামসহ সবখানেই যেন টাকাওয়ালাদের জয় জয়কার। টাকা কিভাবে এলো, সৎ পথে নাকি অসৎপথে এসব নিয়ে কারও মাথাব্যাথা নেই। সামাজিক মর্যাদার মাপকাঠি হয়েছে যেন টাকা। তাই রাজনীতিবিদ চাকরিজীবী, পেশাজীবী, কৃষক ও শ্রমিকরা সবাই যেন টাকার পিছনে দৌড়াচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ছোট ও বড় সকল দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে একই ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। দুর্নীতি করলে শাস্তি পেতে হয় সমাজে এটা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। দুর্নীতি দমনে দুদকের কর্মকর্তা- কর্মচারীদের সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা অবলম্বন করতে হবে। সর্ষের ভেতর ভূত যেন না থাকে তাহলে দুদক জনগণের কাছে আস্থা হারাবে।

এর আগে, বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বলেন, পৃথিবীতে মানুষের অনেক চাহিদা থাকতে পারে, নানা ধরনের লোভ-লালসা মানুষকে অমানুষে পরিণত করে। আবার জ্ঞানের প্রতি লোভ-লালসা অমানুষকে মানুষে পরিণত করে। কেউ দুর্নীতিবাজ হয়ে জন্মায় না, জন্মায় পরবর্তীতে দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশকে দুর্নীতিমুক্ত করতে পারে যুব সমাজ, দুর্নীতিবাজদের বিবেক আর দুর্নীতিবিরোধী আইনের যথাযথ ও নিরপেক্ষ ব্যবহার ও প্রয়োগ, এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধমূলক সময়োপযোগী আইনি ব্যবস্থা।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন দুদক চেয়ারম্যান ড. মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, জীবন যাত্রার মান উন্নত হলেও দুর্নীতি বিরাজমান। এতে প্রতীয়মান হয় যে মানুষ অভাবে নয় বরং লোভ ও স্বভাবগতভাবেই দুর্নীতি করে থাকে। যারা দুর্নীতি করে তাদের মধ্যে কোন দেশপ্রেম আছে বলে দুদক মনে করে না। সামান্যতম দেশপ্রেম থাকলে তার পক্ষে দুর্নীতি করা সম্ভব না। 

তিনি আরও বলেন, দুর্নীতির মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেওয়া যায় না, দেশকে পিছিয়ে নেওয়া যায়। যারা দেশকে পিছিয়ে নেওয়ার কাজে জড়িত তারা কিভাবে দেশ প্রেমিক হতে পারে। একজন দুর্নীতিবাজের পরিচয় শুধুই দুর্নীতিবাজ। 

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, একসময় দুর্নীতিবাজদের চিহ্নিত করে সমাজে বয়কট করা হতো। কিন্তু এখন মানুষের মর্যাদা হয় অর্থের মাপ কাঠিতে। এই অবস্থা থেকে আমাদের বেরিয়ে এসে দুর্নীতি করলে শাস্তি পেতে হবে এবং দুর্নীতি করে কেউ পার পাবে না এমন ধারণা সৃষ্টি করতে দুদক সকল বিভাগ, জেলা, উপজেলায় সমাজের সর্বস্তরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ৫০২টি কমিটি করে সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।