কক্সবাজারের টেকনাফে মাদক কেনার জন্য এসে স্থানীয় মাদক কারবারিদের হাতে হাতুড়ি পিটুনিতে নিহত হয়েছেন হুমায়ূন রশিদ প্রকাশ সুমন নামের এক ব্যক্তি।
শুক্রবার রাত ১০টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ লাশ উদ্ধার করেছে।
এ সময় নিহত যুবক হুমায়ূন রশিদের সঙ্গে থাকা লক্ষীপুরের এনজু মিয়ার ছেলে জহিরুল ইসলামকে আহত অবস্থায় পুলিশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
নিহত সুমন লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ থানার পালবাড়ির হাসিবুর রহমানের ছেলে।
শুক্রবার (৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউপির মরিচ্যাঘোনা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
আহত জহিরুল ইসলাম বলেন, তারা দু'জন পরিচয় হয়েছেন কারাগারে। সেখানে তাদের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরি হয়। কারাগার থেকে জামিনে বের হয়ে একে-অপরের সাথে যোগাযোগ করে কক্সবাজারে বেড়াতে আসেন।
আহত জহিরুল আরও বলেন, কক্সবাজার থেকে হুমায়ূনের কথামতে টেকনাফে আসেন ফয়সাল, রাসেল ও ইবরাহীমের বাসায়। আসার পরে জানতে পারেন হুমায়ূনের সঙ্গে টেকনাফের স্থানীয় ফয়সাল, রাসেল ও ইবরাহীমদের লেনদেন রয়েছে।
জহিরুলের ধারণা মতে- তাদের মধ্যে মাদকেরই লেনদেন ছিল। যে মাদকের পাওনা টাকা পরিশোধ করতে না পারায় লোহার রড, হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছেন হুমায়ূনকে। এ সময় জহিরুলকেও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছেন বলে জানান তিনি।
জহিরুলের ভাষ্যমতে, নিহত হওয়ার আগে স্থানীয় মাদক কারবারিদের ৩ লাখ টাকা দিয়েছেন তারা। তারপরেও স্থানীয় মাদক কারবারি ইবরাহীম গ্যাংরা বেধড়ক পিটিয়েছে টাকার জন্য, অবশেষে পিটুনিতেই মারা যান হুমায়ূন।
নিহত হুমায়ুনের স্ত্রী শাহেনা আক্তার মিথিনা বলেন, আমার স্বামী আর জহিরুল সিলেট হয়ে টেকনাফে গেছেন, যাওয়ার সময় তারা ৩ লাখ টাকাও নিয়ে গেছেন বলে জেনেছি। তারা (ইবরাহীমরা) আমাকে বারবার ফোনে বলেছিল, টাকা না দিলে মেরে ফেলবে, তবে সেটা আমি বিশ্বাসও করতে পারিনি, এখন সত্যি-ই মেরে ফেলেছে।’
জানতে চাইলে টেকনাফ মডেল থানার ওসি আব্দুল হালিম বলেন, পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে পোস্টমর্টেমের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তদন্তের পরে বিস্তারিত জানা যাবে।