যাত্রীসঙ্কটে ঢাকা ছেড়ে যায়নি বেশির ভাগ লঞ্চ

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ডাকা ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজধানীর পুরান ঢাকার পরিবেশ ছিল থমথমে। নগরীর একমাত্র লঞ্চ টার্মিনাল সদরঘাটে সারি সারি লঞ্চ দাঁড় করানো থাকলেও, যাত্রীসঙ্কটে ঢাকা ছেড়ে যায়নি বেশির ভাগ লঞ্চ। আবার দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা লঞ্চের সংখ্যাও ছিল খুব কম। দু-একজন যাত্রী এলেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে ফিরে যেতে হয়েছে তাদের। যাত্রী ছাড়া শিডিউল অনুযায়ী ফাঁকা লঞ্চ চালানো সম্ভব নয়, বলছে মালিকপক্ষ।

এদিকে সংঘাতের শঙ্কায় বন্ধ ছিল সদরঘাটমুখী সবধরনের গণপরিবহন। বুড়িগঙ্গা নদীতে খেয়া নৌকা পারাপার বন্ধ থাকায় বাবুবাজার সেতু দিয়ে চলাচল করতে হয়েছে যাত্রীদের।

নৌঘাটের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বরত কর্মকর্তারা জানান, প্রতিদিন সাধারণত সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে ৭০-৭৭টি লঞ্চ ছেড়ে যায় এবং সমানসংখ্যক লঞ্চ ঘাটে আসে। তবে শুক্রবার সদরঘাট থেকে মাত্র ৬টি লঞ্চ ছেড়ে গেছে, আর ঘাটে এসে পৌঁছেছে মাত্র ৭টি। ট্রাফিক ইন্সপেক্টর হুমায়ূন কবির বলেন, 'যাত্রীসঙ্কটের কারণে লঞ্চের পরিমাণ কম। রাতে যাত্রী বাড়লে লঞ্চের সংখ্যা বাড়তে পারে। তবে অন্যান্য দিনের তুলনায় আজ যাত্রী নেই বললেই চলে।'

সরেজমিনে ঢাকার একমাত্র নদীবন্দর সদরঘাট ঘুরে দেখা যায়, দৌড়াদৌড়ি আর হাঁকডাকে ব্যস্ত থাকা সদরঘাটে স্থবির পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে চলেছে পুলিশের তল্লাশি। এ ছাড়াও স্ট্যাম্প ও লাঠি হাতে জামায়ত-বিএনপির বিরুদ্ধে মিছিল করতে দেখা গেছে ছাত্রলীগের পুরান ঢাকার বিভিন্ন ইউনিটকে। টার্মিনাল এলাকায় সারি সারি লঞ্চ দাঁড়িয়ে থাকলেও যাত্রী নেই। মাঝে মাঝে দু-একজন লঞ্চ কর্মচারী ও পুলিশদের আনাগোনা। টার্মিনালের দক্ষিণ পাশে ভোলা জেলার ২০-২৫ জন যাত্রীকে লঞ্চের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়। ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করেও লঞ্চ না পাওয়ার অভিযোগ জানান তারা।

সদরঘাট ট্রাফিক সূত্রে আরো জানা যায়, সকাল থেকে ভোলার উদ্দেশে আল ওয়ালিদ-৯, দোয়েল পাখি, সেভেন সি, শরীয়তপুর-১ এবং চাঁদপুরের উদ্দেশে ময়ূর-২ ঢাকা ছেড়ে গেছে। এ ছাড়া দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে লঞ্চ এসেছে সাতটি। লঞ্চগুলোতে যাত্রীসংখ্যা ছিল সীমিত। 

বরিশাল থেকে আসা পারাবত-১১ লঞ্চের সুপারভাইজার কাওসার বলেন, 'আজ যাত্রী নেই বললেই চলে। বিএনপির সমাবেশের জন্য মানুষ আতঙ্কে আছে। প্রতিদিন পাঁচ শর অধিক যাত্রী নিয়ে আসি অথচ আজ মাত্র ১০০ জন যাত্রী নিয়ে এসেছি। যাত্রী না থাকায় বরিশাল থেকে এই একটা মাত্র লঞ্চই এসেছে।'

লঞ্চ মালিক সমিতির সদস্য সচিব সিদ্দিকুর রহমান পাটওয়ারী দেশ রূপান্তরকে বলেন, 'আমাদের মালিক সমিতি থেকে আজ কোনো প্রোগ্রাম রাখা হয়নি। অন্যান্য দিনের তুলনায় আজ যাত্রী কম। তাই লঞ্চ এর সংখ্যাও কম। একটি লঞ্চ যাওয়া আসায় অনেক টাকা খরচ হয়। ফাঁকা লঞ্চ তো আর চালানো যায় না। যাত্রী হলেই লঞ্চ চলবে।'

লঞ্চ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, 'যাত্রী না পেলেতো লঞ্চ চলবে না, এটাই স্বাভাবিক। যাত্রী হলেই লঞ্চ যাচ্ছে, আসছে। আমাদের তো লঞ্চ না চললেই লস। গতরাতে বরিশালে মাত্র একটা লঞ্চ গেছে। লঞ্চ বন্ধ রাখার বিষয়ে মালিক সমিতির পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। যাত্রীসঙ্কটে কেউ লঞ্চ বন্ধ রাখলে বা চালু রাখলে, সেটা তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার।'

সদরঘাট নৌ-থানার ওসি শফিকুর রহমান বলেন, 'ঘাটের পরিবেশ এখন পর্যন্ত স্থিতিশীল। আমরা সতর্ক অবস্থানে আছি।'