বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ডে নতুন করে ক্ষোভে ফুঁসছে ইরান

মহসেন শেকারি নামে এক বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর নতুন করে বিক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে ইরানের জনগণ। এছাড়া এ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জেরে তেহরানের ওপর আরও নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর প্রতিবাদে তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে উত্তাল ইরান। এবার চলমান বিক্ষোভে আটক হওয়া এক বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করায় নতুন করে ফুঁসে দেশটির উঠেছে জনগণ। আল জাজিরা জানায়, শুক্রবার (৯ ডিসেম্বর) রাজধানী তেহরানে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে উত্তেজিত জনতা। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন করা হয় আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য।

মাহসা আমিনির মৃত্যুর জেরে ইরানের ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। বৃহস্পতিবার (৮ ডিসেম্বর) এক বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করায় নতুন করে নিষেধাজ্ঞায় পড়তে যাচ্ছে তেহরান। শুক্রবার দেশটির ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন।  

তেহরানের নিরাপত্তাবাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ওপর এ নিষেধ্জ্ঞা আরোপ করা হয়। এছাড়া আগামী সোমবার (১২ ডিসেম্বর) বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে আন্তর্জাতিক মহলের পক্ষ থেকে ইরানের ওপর আরও নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।

বিক্ষোভকারী নিহতের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা। সংস্থাটি জাতিসংঘের প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে।  

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল গত বৃহস্পতিবার মহসেন শেকারির মৃত্যুদণ্ডের ঘটনাকে ‘ভয়ংকর’ বলে উল্লেখ করে। যদিও এ বিষয়ে ইরানের বিচার বিভাগের দাবি, এখন পর্যন্ত বিক্ষোভকারীদের প্রতি ‘সর্বোচ্চ সংযম’ আচরণই দেখিয়েছে প্রশাসন।  

এর আগে, তেহরানের একটি প্রধান সড়ক অবরোধসহ আধাসামরিক বাহিনীর এক সদস্যকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগে আটক করা হয়েছিল মহসেনকে।