জিয়া পরিবারের হাতে রক্তের দাগ: মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী মোজম্মেল হক বলেছেন, জিয়া পরিবার খুনি পরিবার। জিয়া-খালেদা-তারেক রহমানসহ পরিবারের সবার হাতে রক্তের দাগ লেগে আছে।

শনিবার (১০ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে 'মায়ের কান্না' আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার সাথে জিয়া সরাসরি জড়িত উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ মেনে নিতে পারেনি জিয়াউর রহমান। ১৯৭৫ সালে খুনি মোশতাককে সাথে নিয়ে জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করে, খুনি জিয়া বাংলাদেশে গুম, খুন ও নির্যাতনের রাজনীতির প্রবর্তন করে।

মন্ত্রী বলেন, পরবর্তীতে জাতীয় চার নেতাকে হত্যার সাথেও জড়িত জিয়াউর রহমান। পরবর্তীতে বিমান বাহিনী ও সেনাবাহিনীর মেধাবী মুক্তিযোদ্ধা সদস্যদের বিদ্রোহের নামে নির্মমভাবে হত্যা করে জিয়া। ১৯৭৭ সালে ষড়যন্ত্রমূলক প্রহসনের বিচারের মাধ্যমে ১১৫৬ জন বিমান ও সেনাবাহিনীর সদস্যকে হত্যা করে। বাংলাদেশকে ধ্বংস করে দিয়েছে জিয়াউর রহমান।

খালেদা জিয়া ও তারেক জিয়াকে খুনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার সাথে জড়িত তারেক রহমান। তাকে দেশে এনে বিচার করা হবে বলে জানান তিনি।

সংসদ ভবন এলাকায় জিয়াউর রহমানের কবরের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সেখানে যে কবর রয়েছে তাতে জিয়াউর রহমানের লাশ নেই। পবিত্র সংসদ ভবন এলাকা থেকে দ্রুত এ বিতর্কিত কবর অপসারণ করা হবে বলে জানান তিনি।

সমাবেশের প্রধান বক্তা কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য হাজী আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার বলেন, বাংলাদেশে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার মধ্য দিয়ে চরমভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে। জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে আমাদের মেধাবী সেনা ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের বিনা বিচারে হত্যা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সেই ষড়যন্ত্রমূলক হত্যাকাণ্ডের শিকার বিমান ও সেনা সদস্যদের সন্তান ও পরিবারের সদস্যরা বিচারের আশায় ঘুরছে, তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি সকলের মা, আপনি চাইলে তাদের কান্না লাঘব হবে।

মায়ের কান্না অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এশিয়াটিক সোসাইটির সভাপতি ও মায়ের কান্না সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ড. খন্দকার বজলুল হক। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাখেন ১৯৭৫ সালে ৭ নভেম্বর শহীদ কর্নেল নাজমুল হুদার মেয়ে নাহিদ এজাহার খান, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র আরফানুল হক রিফাত, কুমিল্লা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মফিজুর রহমান বাবলু, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) হেলাল মোর্শেদ বীররিক্রম, দীপ্ত টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী জাহেদুল হাসান, কর্পোরাল লরেন্স ডি রোজারি।

বক্তারা বলেন, বিদ্রোহ দমনের নামে ১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমানের নির্দেশে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ১১৫৬ জন সৈনিক এবং অফিসারকে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের শিকার বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের ১০০ পরিবারের সদস্য উপস্থিত ছিলেন, কান্না জড়িত কন্ঠে বক্তব্য রাখেন, কর্পোরাল  মোবারক আলীর মেয়ে মমতাজ বেগম, সার্জেন্ট সাইদুর রহমান মিয়ার ছেলে কামরুজ্জামান মিয়া লেলিন, সার্জেন্ট দেলোয়ার হোসেনের ছেলে নূরে আলম, সার্জেন্ট আফাজ উদ্দিন ভূইয়ার ছেলে মাসুদুল আলম, সার্জেন্ট দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী নুরুন্নাহার বেগম, সার্জেন্ট মোফরাকুল আলমের মেয়ে রিমনা বেগম। বক্তারা জিয়াউর রহমানকে খুনি উল্লেখ করে তার মরণোত্তর বিচার দাবি করেন।