নড়াইলে প্রতিপক্ষের হামলায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার হাত বিচ্ছিন্ন

প্রতিপক্ষের হামলায় নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার মল্লিকপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক আকবর হোসেন লিপনের (৪৪) হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

এ ছাড়া ধারালো অস্ত্রের কোপে তার শরীরের একাধিক স্থানে গুরুতর জখম হয়েছে। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে রবিবার রাতে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে।

জানা গেছে, মল্লিকপুর ইউনিয়নের মঙ্গলহাটা গ্রামের নূর মিয়ার ছেলে আকবর হোসেন লিপন রবিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে গ্রামের রাস্তা দিয়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন।

উত্তর পাড়া শিকদার বাড়ি মসজিদের কাছে আসলে সন্ত্রাসীরা তাকে ঘিরে ফেলে বেপরোয়াভাবে কোপাতে থাকে।

ধারালো অস্ত্রের কোপে ঘটনাস্থলেই তার ডান হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাকে প্রথমে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রাতেই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

লিপন মল্লিকপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য (মেম্বার) ছিলেন।

গত বছর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হয়েছিলেন।

গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক দলাদলি চলে আসছে। একটি গ্রুপের নেতৃত্বে ছিলেন আহত লিমন ও ঠান্ডু মিয়া। লিমনদের প্রতিপক্ষের নেতৃত্ব দেন মোস্তফা সিকদার ও আকবর মোল্যা।

মল্লিকপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের (মঙ্গলহাটা) সদস্য মো. ইমদাদুল মল্লিক জানান, এক বছর হলো ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনের আগে থেকেই মঙ্গলহাটা গ্রামে সামাজিক বিরোধ চলে আসছে।

গত এক বছর ধরে কিছুটা স্বাভাবিক ছিল। হঠাৎ করে একটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। পূর্বশত্রুতার জের ধরে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেন।

জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি তরিকুল ইসলাম উজ্জ্বল বলেন, ‘আকবর হোসেন মল্লিকপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

‘তিনি এলাকায় অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন। বর্তমানে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে।’

লোহাগড়া থানার ওসি মো. নাসির উদ্দিন জানান, গ্রাম্য বিরোধ ও পূর্বশত্রুতার জের ধরে এ ঘটনা ঘটতে পারে। ঘটনাস্থল থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া হাত উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আটকের জোর চেষ্টা চলছে। এলাকার পরিস্থিতি আপাতত শান্ত আছে। পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।