শুরুটা হলো নড়বড়ে। কিন্তু ম্যাচের ২০ মিনিট পার হতেই আর্জেন্টিনা দেখা দিল ভয়ঙ্কর রূপে। পেনাল্টি থেকে লিওনেল মেসি গোল করলেন। গড়লেন আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ড। এরপর জুলিয়ান আলভারেজ জাদু। মন মাতানো গোলে লিড করলেন দ্বিগুন। সুবাদে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে গেল আর্জেন্টিনা।
লুসাইল স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় শুরু হয় ম্যাচটি। প্রথম ২০ মিনিটে ক্রোয়েশিয়া ৬৬ শতাংশ বল নিজেদের দখলে রেখে খেলে। গোল মুখে একটি শট নিলেও লক্ষ্যে রাখতে পারেনি। আর আর্জেন্টিনা এই সময়ে কোনো শটই নিতে পারেনি প্রতিপক্ষের পোষ্টে। দুই দলের খেলাটা তখন পর্যন্ত ছিল মিডফিল্ড কেন্দ্রিক। কিন্তু এরপর আর্জেন্টিনা বদলে যায়।
২৫তম মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজ ডিবক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ে দূর পাল্টার শট নেন। তবে ক্রোয়াট গোলকিপার লিভাকোভিচকে সেটি তেমন পরীক্ষায় ফেরতে পারেনি। ৩১তম মিনিটে ভালো সুযোগ তৈরি করে ক্রোয়েশিয়া। ডিবক্সের বাঁপাশ থেকে ইভান পেরিসিচের ডান পায়ে শট পোষ্টের ওপর দিয়ে যায়।
পরের মুহূর্তেই পাল্টা আক্রমণে যায় আর্জেন্টিনা। জুলিয়ান আলভারেজ বিপদজনকভাবে ঢুকে পরেন ক্রোয়েশিয়ার বক্সে। তাকে বক্সে ফাউল করেন ক্রোয়েশিয়ার গোলকিপার লিভাকোভিচ। ফলে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। স্পট কিক থেকে মেসি গোল করতে ভুল করেননি।
এই গোলের মধ্য দিয়ে আর্জেন্টিনার জয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ডে গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতাকে ছাড়িয়ে গেলেন মেসি।
৩৪তম মিনিটে মেসির করা ওই গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই দেখার মতো এক গোল করেন আলভারেজ। আর্জেন্টিনা এগিয়ে যায় ২-০ তে।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে ক্রোয়েশিয়ার মারিও পাসালিক ভালো একটি সুযোগ পেলেও কাজে লাগাতে পারেননি।
কোয়ার্টার ফাইনালে এই দুই দলই টাইব্রেকারে জয় তুলে নেয়। আর্জেন্টিনা হারায় নেদারল্যান্ডসকে। অন্যদিকে ক্রোয়েশিয়া হারায় পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে।
ডাচদের বিপক্ষে ম্যাচের শুরুর একাদশে দুটি পরিবর্তন এনে এদিন মাঠে নামে আর্জেন্টিনা। আকুনিয়া কার্ডের খাড়ায় খেলতে পারছেন না। তার জায়গায় ফুলব্যাক হিসেবে একাদশে আসেন নিকোলাস তাগলিয়াফিকো। আর ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেসের জায়গায় একাদশে জায়গা করে নেন মিডফিল্ডার লেয়ান্দ্রো পারেদেস।
অন্যদিকে ক্রোয়েশিয়া মাঠে নেমেছে ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচের একাদশ অপরিবর্তিত রেখে।