নারায়ণগঞ্জে ব্যবসায়ীকে মারধর, ডিবি পুলিশ অবরুদ্ধ

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় মহিউদ্দিন মিয়া (৪৫) নামের এক ব্যবসায়ীকে কোন কারণ ছাড়াই পিটিয়ে আহত করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি টিম। এসময় এলাকাবাসী জড়ো হয়ে মারধরের কারণ জানতে চাইলে কোন সদুত্তর না পেয়ে ওই টিমকে অবরুদ্ধ করে রাখে। 

পরে খবর পেয়ে প্রায় ২ ঘণ্টা পর ফতুল্লা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকাবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়ে গোয়েন্দা পুলিশের একজন এসআইসহ ৭ সদস্যকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। 

মঙ্গলবার (১৩ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ফতুল্লা থানার মুসলিমনগর এতিমখানার সামনে এঘটনা ঘটে। 

আহত ব্যবসায়ী মহিউদ্দিন জানান, মসজিদ থেকে এশার নামাজ পড়ে বের হতেই একজন লোক লাঠি নিয়ে এসে আমাকে বেধড়ক পিটাতে থাকে। হাতে পায়ে পিঠে লাঠি দিয়ে একের পর এক আঘাত করতে থাকে। কিছুক্ষণ পর আরও কয়েকজন এসে আমাকে কুকুরের মত পেটায়। 

এসময় বার বার আমার অপরাধ সম্পর্কে জানতে চাইলে বাম কানে থাপ্পড় দেয়। তখন স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে মারধর করা ব্যক্তিরা নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দেয়। মারধরের বিষয়ে তারা জানতে চাইলে কোন উত্তর দিতে পারেনি। তখন স্থানীয় লোকজন ডিবি পরিচয়দানকারী ওই ব্যক্তিসহ ৭ জনকে অবরুদ্ধ করে রাখেন।

স্থানীয়রা বলেন, পুলিশ এভাবে একজন ব্যক্তিকে পিটাতে পারে না। লাঠি দিয়ে মারতে মারতে মাটিতে ফেলে দেয়। এরপরও লাঠিচার্জ থামাচ্ছে না। তখন আশপাশের সকলে গিয়ে ডিবি পুলিশের সকলকে গাড়িসহ অবরুদ্ধ করেন। এরপর থানা পুলিশ আসলে ডিবির সকলকে তাদের কাছে বুজিয়ে দেয়া হয়।

এবিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের এসআই হাসান জামিলের সঙ্গে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করে পাওয়া যায়নি।

ফতুল্লা মডেল থানার ইন্সপেক্টর (অপারেশন) মাসুদ রানা জানান, একজন ব্যক্তিকে কি কারণে ডিবির এসআই হাসান জামিল লাঠিচার্জ করেছে বিষয়টি জানা নেই। তবে খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় লোকজনদের শান্ত করে এসআই হাসান জামিল ও তার সঙ্গীয় ফোর্সদের উদ্ধার করেছি। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।