বিজয় দিবসের প্রাক্কালে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে এসে নির্বাচনের এক বছর আগেই ভোটের কথা মনে করিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আওয়ামী লীগের গত ১৪ বছরের শাসনামলে দেশের উন্নয়নের কথা তুলে ধরে তিনি বলেছেন, এখন, জনগণকেই বেছে নিতে হবে তারা কী চান– উন্নত মর্যাদাশীল জীবনের ধারাবাহিকতা না, বিএনপি-জামায়াত জোটের দুর্বৃত্তায়নের দুর্বিসহ জীবন?
বৃহস্পতিবার (১৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণ রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচার করা হয়। ভাষণের শুরুতেই বিজয় দিবস উপলক্ষে দেশে ও দেশের বাইরে বসবাসকারী বাংলাদেশের সকল নাগরিককে শুভেচ্ছা জানান সরকারপ্রধান।
তিনি বলেন, দেশ যখন নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে, সে সময় স্বাধীনতা এবং উন্নয়নবিরোধী একটি গোষ্ঠী অরাজকতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
'অরাজকতা' যারা সৃষ্টি করছে তাদের অতীত ইতিহাসের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, এদের একটা অংশ শুধু বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেই ক্ষান্ত হয়নি, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দোসর হয়ে তারা মানুষ হত্যা করেছে। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব এদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করেছিলেন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আওতায় নিয়ে এসেছিলেন।
১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার পর অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে জিয়াউর রহমান যে সেই স্বাধীনতাবিরোধীদের বাংলাদেশের রাজনীতিতে পুনর্বাসিত করেছিল, সে কথাও ভাষণে তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, পুনর্বাসিত হয়ে এরা আবার হত্যা ও সন্ত্রাসের রাজনীতি শুরু করে। আরেকটি দল, যার জন্ম ও লালন-পালন সেনানিবাসে, সেই দলটির হাতে শুধুই রক্তের দাগ। এর প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান জাতির পিতার হত্যা-ষড়যন্ত্রের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। উর্দি গায়ে ক্ষমতা দখল করে সেই ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করতে সশস্ত্র বাহিনীর হাজার হাজার দেশপ্রেমিক সৈনিক এবং অফিসারকে হত্যা করেছে।
এদের প্রত্যক্ষ মদদে হরকাতুল জিহাদ, বাংলাভাই, জমায়িতুল মোজাহিদিন ইত্যাদি জঙ্গি সংগঠন গড়ে ওঠে। ২০০৪ সালের ২১-এ আগস্ট শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশে গ্রেনেড হামলা করে আমাকে এবং আমার দলের শীর্ষ নেতাদের হত্যা করতে চেয়েছিল।
২০১৪ সালের ভোটের আগে ও পরে বিএনপির সরকারবিরোধী আন্দোলনের ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারা দেশে বিএনপি-জামায়াত অগ্নি এবং পেট্রোল বোমা সন্ত্রাসের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে যা ২০১৫ সাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। এ সময় তাদের পেট্রোল বোমা হামলায় ৫০০ জন নিরীহ মানুষ নিহত হয় এবং ৩ হাজার ১৮০ জন দগ্ধ হয়। দগ্ধ শরীরের যন্ত্রণা আজও অনেকেই বয়ে বেড়াচ্ছেন।
এ সময় বিএনপি-জামায়াত জোট সন্ত্রাসীরা হাজার হাজার কোটি টাকার সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করে। এদের হামলায় সাড়ে তিন হাজার বাস-ট্রাক, ২৯টি ট্রেন, ৯টা লঞ্চ পুড়ে ধ্বংস হয়। ৭০টি সরকারি অফিস ও স্থাপনা ভাঙচুর করে এবং ৬টি ভূমি অফিস সম্পূর্ণ পুড়িয়ে দেয়।