জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বলেছেন, ‘পঞ্চাশ বছরেও স্বাধীনতার চেতনা বাস্তবায়ন হয়নি। আমরা এখনো মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ, উদ্দেশ্য অর্জন করতে পারিনি। শোষণ, বঞ্চনা, দুর্নীতি ও দুঃশাসনসহ সম্পদের সুষম বণ্টন করতে পারিনি। সুশাসন ও গণতন্ত্র কায়েম করতে না পারায় দেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি মেলেনি।’
তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ, বিএনপি স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির সঙ্গে ঐক্য করেছে। কিন্তু আমরা কখনো স্বাধীনতাবিরোধী কোন শক্তির সঙ্গে ঐক্য করবো না।
শুক্রবার (১৬ ডিসেম্বর) মহান বিজয় দিবসে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বলবো দেশ আমরা স্বাধীন করেছি, তাদের দায়িত্ব দেশকে গড়ে তোলার। দেশটা আমাদের। অনেক কষ্ট করে দেশটা স্বাধীন করেছি। ভারতে ট্রেনিং নিয়ে বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে জীবনের মায়া ত্যাগ করে আমরা যুদ্ধ করেছি।
তিনি আরও বলেন, ‘মানুষ আজও গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত’ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হয়নি। বেকারত্ব দূর করতে দেশে কোনো উদ্যোগ নেই। এতেই প্রমাণ হয়, দেশের মানুষ স্বাধীনতার স্বাদ উপভোগ করতে পারছে না। তাই, আগামী প্রজন্ম যেন স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ ভোগ করতে পারে সে জন্য সকল রাজনৈতিক শক্তির ঐক্যমত জরুরি। স্বাধীনতার চেতনা বাস্তবায়নে জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই।
জাতীয় পার্টির মহাসচিব বলেন, আমি মনে করি আওয়ামী লীগের উচিত দায়িত্ব নিয়ে সব রাজনৈতিক দলকে নিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা। যাতে হানাহানি, দুর্নীতিমুক্ত দেশ গঠন করতে পারি। শুধু পদ্ধতিগত কারণেই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হচ্ছে না। আনুপাতিক হারে নির্বাচন হলে নির্বাচনে শুধু মার্কা থাকবে, কোনো প্রার্থী থাকবে না। তাই নির্বাচনে কেউ প্রভাব বিস্তার করবে না। শুধু আনুপাতিক হারেই নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মোস্তফা আল মাহমুদ, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও ঢাকা জেলা সাধারণ সম্পাদক ইসরাফিল খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হেলাল উদ্দিন, দপ্তর সম্পাদক এম এ রাজ্জাক খান, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক বাহারুল ইসলাম ইমতিয়াজসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা।