বিতর্কের শুরু চিত্রনায়িকা প্রার্থনা ফারদিন দীঘির একটি ফেসবুক পোস্ট ঘিরে। দীঘির অভিযোগ, তিনি ইন্ডাস্ট্রিতে রাজনীতির শিকার। পরিচালকের বিরুদ্ধে তিনি 'কথা দিয়ে কথা না রাখার' অভিযোগ আনেন।
পরে যার বিরুদ্ধে 'অভিযোগ'- সেই নির্মাতা রায়হান রাফিও এ বিষয়ে মুখ খোলেন। তিনি বলেন, 'দীঘির উচিত টিকটক বাদ দিয়ে অভিনয়ে মনোযোগী হওয়া। ফিটনেসের দিকে আরও মনোযোগী হওয়া। তাকে শুধু আমার সিনেমা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বিষয়টা এমন না, অন্যরা কেন তাকে সিনেমা থেকে বাদ দিল? নিশ্চয়ই তার কোনো ঘাটতি আছে।'
পরিচালক রাফির এমন মন্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মডেল-অভিনেত্রী শাহ হুমায়রা সুবাহ। গতকাল ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, বাংলাদেশের রেকর্ড হয়ে থাকল! এভাবে কোনো দিন কোনো বড় ডিরেক্টর, কোনো নায়িকাকে প্রকাশ্যে তার ফিগার নিয়ে অপমান করতে দেখিনি।...উনি এমনভাবে কথা বলেছেন যেন ইন্ডিয়ান নির্মাতা করণ জোহর বা সঞ্জয় লীলা বানসালি হয়ে গেছেন। সেই সাথে ক্ষোভ ঝেড়ে বিস্ময় প্রকাশ করে সুবাহ লেখেন, নিজে একটা পোড়া বেগুন কিসের এত অহংকার রে ভাই!?
রায়হান রাফিকে ইঙ্গিত করে সুবাহ আরও বলেন, যে প্রেম করতে পারবে সেই ভালো নায়িকা, ভালো ফিগারের সুন্দরী নায়িকা!...… এটা কি ধরনের মিনিং!
অভিনেত্রী আরও লেখেন, বর্তমান যুগে অনেক বড় বড় বলিউড এবং বাংলাদেশের নায়ক-নায়িকারা অনেকেই টিকটক করেন।...এভাবে একটা নায়িকাকে অপমান করা হলো বিষয়টা খুব কষ্টের তারপরও সে (দীঘি) ছোট থেকেই অভিনেত্রী আবার স্টারকিড। তিনটা জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার তাঁর ঝুলিতে আছে। সে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী, তাকে অবশ্যই সম্মান দিয়ে কথা বলা উচিত ছিল তার।
সুবাহ আরও লেখেন- চলচ্চিত্রের প্রযোজক পরিচালক মানে সিনেমার বাবা মা, ওনারা যদি এভাবে এ ভাষায় অভিনেত্রীদের নিয়ে কথা বলে তাহলে বিষয়টা খুবই দুঃখজনক এবং হতাশার। এভাবে বডি শেমিং করা ঠিক হয়নি। আপনাদের সবার উচিত এসব ফালতু মনমানসিকতার মানুষদের শিক্ষা দেওয়া। আমিও চলচ্চিত্রের একজন অংশ এবং আমিও একটা মেয়ে তাই বিষয়টি আমার খারাপ লেগেছে আর আমি পারসোনালি দিঘিকে অনেক পছন্দ করি।
তিনি লেখেন, আমি কখনো কাউকে ছেড়ে কথা বলিনি এবং বলবও না। আমার কাছে খুবই খারাপ লেগেছে ওই ডিরেক্টরের কথাবার্তাগুলো। দিঘির জায়গায় হয়তো আমিও এ রকম বাজেভাবে বডি শেভিং এর শিকার হতে পারি দুদিন পর! ওনার মতো ডিরেক্টর এর কাছে। দিঘির বাবা আমার ছবিতে আমার বাবা হয়েছিলেন; অনেক ভালো মানুষ আর দিঘির মা অনেক নামকরা নায়িকা দোয়েল ছিলেন। দিঘি একটা অল্প বয়সের মা হারা মেয়ে।
সবশেষে চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে তিনি লেখেন, চলচ্চিত্রের মানুষদের অবশ্যই প্রতিবাদ করা উচিত। চুপ থাকলে কাল হয়তো আপনাদের নিয়েও এভাবে অপমান করে কথা বলতে কেউ পিছপা হবে না।