ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের নিরাপত্তায় কোনও ঘাটতি ছিল না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তবে নয় বছর আগে নিখোঁজ বিএনপি নেতার বাড়িতে যাওয়ার আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে তার (পিটার হাস) অবহিত করা উচিত ছিল বলে আমি মনে করি।
রোববার (১৮ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও আইন শৃঙ্খলা সম্পর্কিত জাতীয় কমিটির বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রদূতের বিষয়টি নিয়ে আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুন্দরভাবে ব্যাখা করেছেন। এরপর আমার আর ব্যাখার প্রয়োজন নেই। তবে যেহেতু আমার নির্বাচনী এলাকা, আমি সে এলাকার এমপি। আমি যতটুকু খবর পেয়েছি সেখানে দেখা গেছে, রাষ্ট্রদূত যে বাড়িতে গেছেন তার পাশের বাড়ির কয়েকজন তারা কীভাবে জেনেছে আমি জানি না।
‘তাদের কয়েকটি দাবি যেমন, জিয়ার আমলে তাদের নিরাপরাধ পরিবারের কয়েকজন সদস্যকে হত্যা করেছেন সে বিষয়ে তাদের দাবি প্লাকার্ড তার হাতে দিয়েছেন। এটুকু আমি শুনেছি।’
‘প্রথম কথা হচ্ছে তার নিরাপত্তার কোনো ঘাটতি ছিল না। সেখানে আমাদের পুলিশ বাহিনী ছিল। পুলিশ বাহিনী যখনই শুনেছে একজন মার্কিন রাষ্ট্রদূত সেখানে যাচ্ছেন, পুলিশ বাহিনীর কর্তব্য হয়ে গিয়েছিল সেখানে যাওয়া। আপনারা যদি সেগুলো (ভিডিও) দেখে থাকেন দেখবেন আমাদের ওসি পোশাক পরার আগেই দৌড়ে সেখানে সিভিল ড্রেসে চলে গিয়েছিলেন। এখানে তার নিরাপত্তার অভাব ঘটেছে বলে আমার কাছে কোনো রিপোর্ট আসেনি।’
সাংবাদিকদের অপর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, উনি (মার্কিন রাষ্ট্রদূত) ওখানে যে যাবেন, সেটা আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জানা উচিত ছিল। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানে না, আমরাও এ ব্যাপারে কিছু জানি না।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেছেন- তিনি ওখানে যাচ্ছেন এ তথ্য ফাঁস হলো কীভাবে? সাংবাদিকরা এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, এটা তো আমরা জানি না। আমাদের কাছে কোনো তথ্য দেননি। কীভাবে তথ্য ফাঁস হয়েছে, তার ওখান থেকে তথ্য ফাঁস হয়েছে কি না, তা তো আমরা জানি না।
বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর ভেতরে ও বাইরে যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে, সেগুলো যাতে আর না ঘটে সেজন্য আমরা গোয়েন্দাদের নজরদারি বাড়াতে বলেছি।
এছাড়া সেখানকার ক্যাম্পগুলোকে কেন্দ্র করে যে অপরাধীদের নেটওয়ার্ক ঘরে উঠেছে সেগুলো নজরদারি করার জন্য আমরা একটা কমিটি করে দিয়েছি। সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তারের জন্য ইতিমধ্যে ক্যাম্পগুলোতে বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে।