১চট্টগ্রাম টেস্টের শেষ দিনে শুধুই ভারতের জয়ের আনুষ্ঠানিকতা। অবিশ্বাস্য অনেক কিছুই হয় টেস্টে, তবে অলৌকিক কিছু হয় না। তাই তো ৬ উইকেটে ২৭২ রানে শেষ দিনের খেলা শুরু করা বাংলাদেশ যে আরও ২৪১ রান যোগ করবে, এমন আকাশকুসুম কল্পনা কেউ করেননি। বরং বাস্তবতাটা ছিল শেষ দিনে লড়াইটা কতক্ষণ জারি রাখতে পারে বাংলাদেশ। উত্তর হচ্ছে ৪৯ মিনিট। পঞ্চম দিনে একঘণ্টাও টেকেনি বাংলাদেশের প্রতিরোধ, মধ্যাহ্ন বিরতির আগেই শেষ বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস। তাতে সাকিব আল হাসানের খানিকক্ষণ তেড়েফুঁড়ে ব্যাটিংয়ের পর ৩২৪ রানেই শেষ বাংলাদেশের ইনিংস, তাতে হার ১৮৮ রানের।
বিশ্বকাপ ফুটবলের ডামাডোলে চাপা পড়ে গেছে টেস্টের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স। ভুলভাল একাদশ বাছাই, খেলার মাঝেই দুই প্রধান বোলারের চোট, সেরা ব্যাটসম্যানের অনুপস্থিতি সব মিলিয়ে হ-য-ব-র-ল অবস্থা টেস্ট দলের। অভিষিক্ত জাকির হাসান সেঞ্চুরি করে মান বাঁচিয়েছেন, তবে হার ঠেকাতে পারেননি। ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে আসা রাসেল ডমিঙ্গোকে তাই অনেক অপ্রিয় প্রশ্নই শুনতে হয়েছে।
দ্বিতীয় ইনিংসে বোলিং করেননি সাকিব, তাতে করে ঢাকা টেস্টে তাকে পাওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে শঙ্কা। ডমিঙ্গো বলেছেন সাকিব খেললে শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলবে, ‘সাকিব শুধু ব্যাটার হিসেবে খেলতে পারে। সে খুব বেশি বোলিং করেনি, এখনো তার কাঁধ এবং পাঁজরে ব্যথা আছে। এতে করে আমাদের মাত্র ৪ জন বোলার হাতে ছিল, যা ছিল বড় আঘাত। এরপর ইবাদতও বসে পড়ল। আমাদের টপ-অর্ডার আত্মবিশ্বাসী নয়, আমাদের বোলাররা ব্যাট করতে পারে না। এই রকম অবস্থায় আমাদের অবশ্যই একজন অলরাউন্ডার দরকার।’
ম্যাচের আগে ডমিঙ্গো বড় মুখ করে বলেছিলেন নুরুল হাসান সোহানের কথা। ব্যাটসম্যান এবং উইকেটরক্ষক, দুই ভূমিকাতেই হতাশ করেছেন সোহান। সাকিব বোলিং না করায় দলে সোহানের অবস্থান এখন ‘ট্রিকি’ বলেছেন ডমিঙ্গো, সেই সঙ্গে অল্পতেই হতাশ হয়ে গিয়ে অতীতকে ভুলে যাওয়ার অনুযোগও আছে তার, ‘মাত্র এক টেস্ট আগেই সে উইন্ডিজে হাফসেঞ্চুরি করেছে। আমাদের আবেগি সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না।’
ইয়াসির রাব্বিকে চট্টগ্রাম টেস্টে ওয়ান-ডাউনে খেলানোর বাজিটা কাজে দেয়নি, টেস্ট ক্রিকেটে এসব তুকতাক বেশিরভাগ সময়েই কাজ করে না। ঢাকায় হয়তো একাদশে ফিরতে পারেন মুমিনুল হক, জানালেন ডমিঙ্গো, ‘তাকেই প্রথমে মানতে হবে যে এই বছর সে খুব বেশি রান করেনি। তবুও সে বসিয়ে রাখার মতো খেলোয়াড় না। দ্বিতীয় টেস্টের আগে তাকে অবশ্যই বিবেচনা করা হবে।’ সেজন্যই আনামুল হককে আজ থেকে শুরু বিসিএল খেলতে পাঠিয়ে রেখে দেওয়া হয়েছে মুমিনুলকে।
প্রথম টেস্ট শেষে দ্বিতীয় টেস্টের দলও দিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশের নির্বাচকরা। দলে সাকিব আছেন, তবে ইবাদত আর শরিফুল ইসলাম নেই। বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদকে নেওয়া হয়েছে, তামিম ইকবালের কুঁচকির চোট আর সারেনি। নাসুম টি-২০ দলে নিয়মিত মুখ হলেও টেস্টে ডাক পেলেন প্রথমবার। এই প্রসঙ্গে নির্বাচক হাবিবুল বাশার দেশ রূপান্তরকে জানান, ‘সাকিব দ্বিতীয় টেস্টেও বোলিং করবে কি না, সেটা নিশ্চিত নয়। তাই নাসুমকে ব্যাকআপ হিসেবে নেওয়া হয়েছে। অন্য দুই সংস্করণে সে ভালো করছে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও রেকর্ড ভালো। সেদিক থেকে তাকে দলে নেওয়া।’ ২৬ প্রথম শ্রেণির ম্যাচে ৩০.২৫ গড়ে ১০৫ উইকেট নিয়েছেন বাঁহাতি স্পিনার।
দুই পেসারের বাদ পড়া প্রসঙ্গে সাবেক অধিনায়ক জানালেন, ‘হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট রয়েছে শরীফুলের। যা সারতে চার-পাঁচ সপ্তাহ সময় লাগবে। আর ইবাদত পিঠের পেশিতে ব্যথা পেয়েছে চট্টগ্রাম টেস্টে। তাই তাদের বিশ্রাম দেওয়া।’
সাকিব বোলিং না করলে নাসুমের টেস্ট অভিষেক অনেকটাই নিশ্চিত। ইয়াসির রাব্বির ব্যর্থতায় হয়তো অভিজ্ঞ মমিনুল হকের দিকেই ফিরে তাকাবেন দল সংশ্লিষ্টরা। তবে চট্টগ্রামে কুলদীপ যাদব, অক্ষর প্যাটেলরা যেভাবে উইকেট নিলেন, তাতে মনে হচ্ছে মিরপুরে স্পিনের ফাঁদ পেতেও খুব একটা সুবিধা হবে না।