দাসপ্রথার জন্য ডাচদের আনুষ্ঠানিক ক্ষমাপ্রার্থনা

প্রায় ২৫০ বছর ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঔপনিবেশিক দাসপ্রথায় জড়িত থাকার অভিযোগ স্বীকার করে এই প্রথম ক্ষমা চেয়েছে নেদারল্যান্ডস। ডাচ প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুটে ঔপনিবেশিক আমলের এই অপরাধের দায়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থনা করেন। একই সঙ্গে দাসপ্রথাকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেন তিনি। বিদেশি উপনিবেশগুলোতে ইউরোপীয়দের দাসপ্রথার অবসানের প্রায় ১৫০ বছর পর নেদারল্যান্ডস এই ক্ষমা চাইল। ইউরোপের এই দাসপ্রথা বিস্তৃত ছিল সুরিনাম থেকে শুরু করে ক্যারিবীয় অঞ্চলের কুরাকাও এবং আরুবা দ্বীপ ও পূর্বের ইন্দোনেশিয়া পর্যন্ত। গত সোমবার দ্য হেগে দেওয়া এক বক্তৃতায় নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী রুটে বলেন, ‘ডাচ সরকারের পক্ষ থেকে আমি ডাচ রাষ্ট্রের অতীত কর্মের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করছি। আমরা আজ এখান থেকে দাসপ্রথাকে স্পষ্ট ভাষায় ‘মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ’ হিসেবে স্বীকৃতি এবং নিন্দা জানাই।’

আনুষ্ঠানিক এই ক্ষমা প্রার্থনার আগে ডাচ মন্ত্রীরা দক্ষিণ আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের সাতটি সাবেক উপনিবেশ সফর করেন। গত সপ্তাহে সুরিনামে এক সফরের সময় নেদারল্যান্ডসের অর্থমন্ত্রী ও উপ-প্রধানমন্ত্রী সিগ্রিড কাগ বলেছিলেন, দাসপ্রথায় সংশ্লিষ্টতার দায় মেটাতে আগামী বছরের ১ জুলাই আরেকটি অবিশ্বাস্য রকমের ‘গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত’র প্রক্রিয়া শুরু হবে। ডাচ দাসত্বের শিকারদের বংশধররা এসময় সুরিনামে ‘কেটি কটি’ (শৃঙ্খল ভাঙা) নামে দাসত্ব থেকে মুক্তির ১৫০তম বার্ষিকী উদযাপন করবে। ষোড়শ এবং সপ্তদশ শতকে ডাচরা তাদের সাম্রাজ্য এবং সংস্কৃতি বিস্তারের ‘সোনালি যুগে’ ব্যাপক অর্থায়ন করেছিল। নেদারল্যান্ডসের বিখ্যাত দুই চিত্রশিল্পী রেমব্রান্ট এবং ভার্মির আঁকা ডাচ সোনালি যুগের বিভিন্ন ছবিতে ঔপনিবেশিক বর্বরতা স্পষ্ট। ওই সময় প্রায় ৬ লাখ আফ্রিকানের বেশিরভাগকে দক্ষিণ আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলে দাস হিসেবে পাঠিয়েছিল তৎকালীন ডাচ শাসকরা। ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্যের রমরমা বিস্তারের সময় সুরিনাম, ক্যারিবীয় দ্বীপ কুরাকাও, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ইন্দোনেশিয়ার মতো উপনিবেশের অধিকারী ছিল নেদারল্যান্ডস।