ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বাধার মুখে কর্মী নিয়োগ পরীক্ষা বন্ধের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বুধবার সকালে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার টাইপিস্ট পদে নিয়োগের জন্য পূর্বনির্ধারিত সময়ে টাইপিং দক্ষতা পরীক্ষা শুরু করতে গেলে চাকরিপ্রত্যাশী ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান বেশ কিছু নেতাকর্মীর বাধার মুখে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষ। এছাড়া চাকরিপ্রার্থীদের পরীক্ষাস্থল থেকে জোর করে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এমন পরিস্থিতিতে বন্ধ হয়ে যায় নিয়োগ বোর্ডের কার্যক্রম।
পরে বিকেল ৫টায় অনিবার্য কারণ দেখিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য নিয়োগ বোর্ড স্থগিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তি দেয় কর্র্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে আগামী ২৪ ও ২৬ ডিসেম্বর পূর্বনির্ধারিত আইকিউএসি ও ফাইন আর্টস বিভাগের একই পদের টাইপিং দক্ষতা পরীক্ষাও অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়।
জানা গেছে, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার টাইপিস্টের একটি পদের বিপরীতে ২৬৬ জন চাকরি প্রত্যাশীকে টাইপিং দক্ষতা পরীক্ষায় ডাকা হয়। গতকাল সকাল সাড়ে ৯টায় এই পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ের আগেই পরীক্ষাস্থল ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান ভবনে উপস্থিত হন। পরীক্ষা বোর্ডের আহ্বায়ক ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এইচ এম আলী হাসান। এছাড়া উপ-রেজিস্ট্রার (প্রশাসন) চন্দন কুমার দাস সদস্য সচিব এবং আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক আহসান-উল-আম্বিয়া বিশেষজ্ঞ সদস্য ছিলেন। সকালে পরীক্ষার জন্য রেজিস্ট্রার পরীক্ষাস্থলে গেলে তাকে বাধা দেন ছাত্রলীগের চাকরিপ্রত্যাশী সাবেক ও বর্তমান বেশ কিছু নেতাকর্মী। এতে রেজিস্ট্রার ফিরে যান। একইসঙ্গে প্রার্থীদেরও চলে যেতে বলেন নেতাকর্মীরা। পরে প্রার্থীরা বিকেল পর্যন্ত অপেক্ষা করে চলে যান।
এ প্রসঙ্গে ইবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল সিদ্দিকী আরাফাত বলেন, ‘যারা পরীক্ষা স্থগিত করেছে তারা ছাত্রলীগের সাবেক নেতাকর্মী, যারা দীর্ঘদিন থেকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে কাজ করে আসছিল। বর্তমান কমিটির কেউ সেখানে ছিল না।