যে কারণে আগুয়েরোর গলায় বিশ্বকাপ জয়ের পদক

ম্যানচেস্টার সিটি থেকে গত মৌসুমে বার্সেলোনায় যোগ দিয়েছিলেন সার্জিও আগুয়েরো। মাত্র ৫ খেলার পরই আক্রান্ত হন হৃদরোগে। তারপর আর মাঠে নামা সম্ভব হয়নি। ফলে মাত্র ৩৪ বছর বয়সেই ফুটবলকে বিদায় জানাতে হয় তাকে। ছিলেন না এবারের বিশ্বকাপে দলের সদস্য হিসেবেও। তবু মেসিদের সঙ্গে ছায়া হয়েছিলেন তিনি। যা নজর কেড়েছে সবার। তবে সব ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে, তার গলায় বিশ্বকাপ জয়ের পদক কেন?

বিশ্বকাপের সময় পুরোনো সম্পর্ক থেকেই আর্জেন্টিনা দলের সঙ্গে ছিলেন ম্যানচেস্টার সিটি ও বার্সেলোনার সাবেক এই স্ট্রাইকার। মেসিদের সঙ্গে এত দিনের বন্ধুত্বের বন্ধনটা তো আর হালকা কিছু নয়। সেই আবেগ থেকেই তিনি আর্জেন্টিনা দলের সঙ্গে ঘুরতেন, ফিরতেন। মেসিদের মন ভালো রাখতে হাসি-তামাশায় তাদের মাতিয়ে রাখতেন। আর্জেন্টাইন ফুটবলাররাও বিশ্বকাপের সময় আগুয়েরোর সঙ্গ উপভোগ করেছেন। তিনি ধীরে ধীরে হয়ে উঠেছেন দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এতটাই যে, লিওনেল স্কালোনি নাকি তাকে সহকারী কোচ হিসেবে পদও প্রস্তাব করেছিলেন। গত মার্চে আগুয়েরো অবশ্য বিনয়ের সঙ্গেই সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন।

বিশ্বকাপ ফাইনালের পর পদক গলায় তার ছবি সংবাদ সংস্থায় এসেছে। আর্জেন্টিনার জার্সি পরে বিশ্বকাপ ট্রফি হাতেও ছবি দেখা গেছে তার। এসব ছবি নিয়ে কিছুটা জল্পনা-কল্পনারও জন্ম হয়েছে। তবে আসল তথ্য হচ্ছে, স্কালোনির প্রস্তাব যেহেতু আগুয়েরো গ্রহণ করেননি, তাই বিশ্বকাপ পদক পাওয়ারও কোনো ব্যাপার তার ক্ষেত্রে ঘটেনি। কারও পদক শখ করে গলায় ঝুলিয়েই হয়তো তিনি উদ্‌যাপনে মেতেছিলেন। তবে আর্জেন্টিনা দলের সঙ্গে বিশ্বকাপ জয় তিনি উদ্‌যাপন করেছেন মন-প্রাণ খুলেই।

বিশ্বকাপ চলাকালেই দলের সঙ্গে তার ওঠাবসা নজর কেড়েছিল সবার। বেশ কিছু গণমাধ্যম তাই তাকে আলবিসেলেস্তেদের ‘২৭ নম্বর’ ফুটবলার বলে উল্লেখ করেছে। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে দুই দলের খেলোয়াড়দের ঝগড়া থামাতেও তিনি মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন। বিশ্বকাপের সময় কখনোই মনে হয়নি তিনি আর্জেন্টাইন দলের কেউই না।