চীনে ভয় ধরাচ্ছে করোনা ভাইরাসের উপধরন বিএফ.৭। দেশটিতে প্রতিদিন ১০ লাখেরও বেশি মানুষ এই নতুন উপধরনে আক্রান্ত হচ্ছে বলে রিপোর্টে উঠে এসেছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের দাবি, কোভিডের এই নতুন উপধরন আগে থেকেই ছিল এবং চীনের আগে গত ২ বছরে এই ভাইরাস বিশ্বের ৯১টি দেশে ছড়িয়েছে।
স্ক্রিপস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, বিএফ.৭-এর জিনের কাঠামো এবং চরিত্র ২০২১-এর ফেব্রুয়ারি থেকে ৯১টি দেশে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসের একটি উপধরনের সঙ্গে মিলে গিয়েছে। কিন্তু এই ৯১টি দেশে সেই উপধরন খুব একটা প্রভাব বিস্তার করতে বা ক্ষতি করতে পারেনি বলেও গবেষণায় উঠে এসেছে।
পরে সেই উপধরনেরই নাম বিএফ.৭ দেওয়া হয়েছে বলে ‘ইনসাকগ’-এর এক ভারতীয় বিজ্ঞানী জানিয়েছেন। ‘ইনসাকগ’ ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রষণালয়ের একটি উদ্যোগ, যা ২০২০ সালের ৩০ ডিসেম্বর কোভিডের জিনোম সিকোয়েন্সিং এবং ভাইরাসের চরিত্র অধ্যয়ন ও নিরীক্ষণের জন্য তৈরি করা হয়েছিল।
বিএফ.৭, করোনার ওমিক্রন ধরনের উপধরন। বিভিন্ন ভাইরাস বিশেষজ্ঞ এবং মহামারী বিশেষজ্ঞরা আপাতত এই নতুন উপধরনকে খুব একটা চিন্তার বিষয় বলে মনে করছেন না। গত বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি চিহ্নিত হওয়ার পর থেকে বিশ্বব্যাপী প্রায় ৪৮ হাজার করোনা আক্রান্তের নমুনায় এই উপধরন দেখা গিয়েছে বলেও বিশেষজ্ঞদের দাবি।
‘ইনসাকগ’-এর জিনোম সিকোয়েন্সিং-এর গবেষক সংবাদমাধ্যমে বলেছেন, ‘গত ২২ মাসে বেশ কয়েকটি দেশে উপস্থিতি সত্ত্বেও, বিএফ.৭ উল্লেখযোগ্য ভাবে ক্ষতি করতে পারেনি। তাই এখনই ভয়ের কোনও কারণ তৈরি হয়নি।’
তা হলে, বিএফ.৭ নিয়ে কেন এত আতঙ্ক ছড়াচ্ছে? তার কারণ চীনে করোনার এই উপধরনের আগ্রাসী মনোভাব দেখা যাচ্ছে। তবে, বিজ্ঞানীদের দাবি, করোনার টিকা নিয়ে উদাসীনতার কারণেই চীনে হঠাৎ করে সংক্রমণ বেড়ে গেছে।