ভারতকে মাত্র ১৪৫ রানের লক্ষ্য দিয়েছে বাংলাদেশ। ছোট পুঁজি নিয়েও লড়াইটা জমিয়ে তুলেছে টাইগাররা। তৃতীয় দিনের শেষ বেলায় ছড়ি ঘুরিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তাতে ৪৫ রান তুলতেই ৪ উইকেট হারিয়ে দিন শেষ করেছে রাহুল দ্রাবিড়ের শিষ্যরা। চতুর্থ দিনেই খেলা শেষ হতে চলেছে। জয়ের জন্য ভারতকে করতে হবে ১০০ রান। আর বাংলাদেশকে নিতে হবে ৬ উইকেট।
চতুর্থ দিনের সকালে বাংলাদেশের জন্য অপেক্ষা করছে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের। সকাল সকাল যদি এক-দুটি উইকেট নেওয়া যায়, তবে জয় পেতে বিশেষ বেগ পেতে হবে না। এমনটা মনে করছেন টাইগারদের সহ-অধিনায়ক লিটন দাস।
অল্প পুঁজির এই লক্ষ্য দাঁড় করাতে ভূমিকা রেখেছে লিটন দাসের ৭৩ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস। দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে তিনি জয়ের আশাই করেছেন, ‘অবশ্যই জেতা সম্ভব। সকাল সকাল যদি এক-দুটি উইকেট নিতে পারি, অবশ্যই জেতা সম্ভব। যতই বড় বড় ব্যাটসম্যান থাকুক, হাতে উইকেট না থাকলে অনেক কিছু চাইলেই করতে পারবে না। (আগামীকাল) এসেই যদি ২ উইকেট নিয়ে নিতে পারি, এরপর ঋষভ আছে, আইয়ার আছে। অবশ্যই ওরা ভালো খেলোয়াড়, তবে চাপে থাকবে।’
১০০ রান তাড়া করার জন্য যথেষ্ট সময় হাতে আছে ভারতের। কিন্তু চাপের মুখে ভারত কেমন করে, সে পরীক্ষা নেওয়ার মতো অবস্থানে আছে বাংলাদেশ দল। লিটন যেমন বলছিলেন, ‘এ মুহূর্তে আমরাই এগিয়ে। তারা চাপে আছে। আমরা ভালো পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামলে তারা ভেঙে পড়বে। এটাই আমাদের লক্ষ্য। আমাদের জিততে হবে। পরিকল্পনা এটুকুই। তাদের বরং ভালো পরিকল্পনা থাকতে পারে।’
লিটনকে আত্মবিশ্বাসী করেছে মূলত বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ, ‘আমরা জানি আমাদের বোলারদের কী কোয়ালিটি। মিরপুরের উইকেটে ব্যাটিং সব সময় কঠিন।’
ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ এর আগে ১২টি টেস্ট খেলে ১০টিতেই হেরেছে। বাকি ২টি টেস্ট বৃষ্টির কল্যাণে ড্র হয়। এখন বাংলাদেশ দাঁড়িয়ে প্রথমবারের মতো ভারতের বিপক্ষে টেস্ট জয়ের। মুমিনুল-লিটনরা ২০২২ সাল শুরু করেছিল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্ট জয় দিয়ে। ভারতের মতো দলের বিপক্ষে জয় দিয়ে বছর শেষ করার সুযোগ এখন বাংলাদেশের। লিটন একটু রোমাঞ্চিতই তা নিয়ে, ‘এমন কিছু হলে সেটা বিরাট অর্জন হবে। এর থেকে বড় পাওয়া আর কিছু হয় না।’